advertisement
আপনি দেখছেন

সৌদি আরবের সামরিক ও প্রতিরক্ষা কোম্পানি সৌদি অ্যারাবিয়ান মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিজের (সামি) প্রধান হিসেবে একজন নারীকে নিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, ভবিষ্যতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সামারিক কোম্পানি একজন দক্ষ নারী প্রকৌশলীর হাতে থাকবে। সামির সিইও আবু খালেদ লন্ডনে ডিএসইআই বাণিজ্য মেলায় এ তথ্য জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে আরব নিউজ।

saudi arabian military industriesসৌদি অ্যারাবিয়ান মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিজ

তিনি জানান, সৌদি সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সামরিক খাতের মোট প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ৫০ শতাংশ দৃশ্যমান করা। আমরা বিশ্বাস করি, যারা এটা করতে পারবে তারাই হবে সামির ভবিষ্যৎ শীর্ষ নেতৃত্ব।

এই সৌদি কর্মকর্তা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে আমাদের একজন নারী নেতৃত্ব দরকার। অদূর ভবিষ্যতে না হলেও এই নেতৃত্ব একদিন আসবেই। সৌদি আরবের অনেক নারী ইঞ্জিনিয়ার ইউরোপ-আমেরিকায় কাজ করছেন। তারা কাজে কর্মে ভাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং এখন দেশে ফিরতে চাচ্ছেন।

আবু খালিদের বক্তব্য, সৌদি আরব নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে। সামির একজন সিইও নারী হবেন, শুধু নারী বলেই তিনি প্রধান হবেন না, বরং তিনি সিইও হবেন তার অসাধারণ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে। ২০১৭ সালে পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহায়ক সংস্থা হিসেবে চালু করা হয় সামি। বিদেশি সামরিক পণ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়নে ইতোমধ্যে ফ্রান্সের কোম্পানি থালেস, বেলজিয়ামভিত্তিক সিএমআই ডিফেন্স, রাশিয়ার রোসোব্রোনেক্সপোর্ট, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং এবং ফ্রান্সের নাভাল গ্রুপের সঙ্গে সামির চুক্তি হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। ২০১৮ সালে ছিল ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০২০ সালের শেষে তা বেড়ে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মাত্র দুই বছরে ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ। আবু খালেদ বলছেন, প্রতিরক্ষা খাতে নারীরা এখন কর্মী বাহিনীর ২২ শতাংশ। মূলত মানবসম্পদ, অর্থ এবং আইন বিষয়ক পদে এসব নারী চাকরি করছেন।

সামির সিইও আরও বলেন, আমরা চাই, সামি ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি কোম্পানির মধ্যে একটি হয়ে উঠুক। আমরা অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিকেই সমান ক্ষমতা অর্জন করতে চাই। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজার স্থানীয় কর্মীকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য দেশীয় প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।