advertisement
আপনি দেখছেন

আগস্টের ১৫ তারিখে যখন তালেবান কাবুল দখল নেয়, আশঙ্কা করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখল করতে গেলে কিছুটা হলেও সংঘর্ষ হবে। কিন্তু তার কিছুই হয়নি। বিনা রক্তপাতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের অন্দর মহলে পৌঁছে যায় তালেবান যোদ্ধারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ খানিকটা আগেই সরে গেছেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। দ্য নিউজ।

afghanistans former president ashraf ghaniআশরাফ ঘানি

সে সময়ই কথা ওঠে, অর্থ-সম্পদের ভারি ভারি ব্যাগ নিয়ে দেশ ছেড়েছেন ঘানি। গাড়িতে-বিমানে করে তিনি এসব সম্পদ সরিয়ে নিয়েছেন। এ খবর চাউর হওয়ার পর একদিন ভিডিও বার্তায় এসে আশরাফ ঘানি দাবি করেন, প্রায় শূন্য হাতেই তিনি দেশ ছেড়েছেন। সংঘাত এড়ানোর জন্যই তিনি এই পন্থা অবলম্বন করেছেন।

প্রায় দুই মাস পর হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন আশরাফ ঘানির প্রধান দেহরক্ষী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিরাজ আতা শরিফি। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের দাবি সত্য নয়। কাবুল তালেবানদের হাতে পড়ার আগেই তিনি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যাগ নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। তার দাবির সমর্থনে তার কাছে রাজপ্রাসাদের সিসিটিভি রেকর্ডিং আছে বলে জানান।

brigadier general piraz ata sharifi আশরাফ ঘানির প্রধান দেহরক্ষী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিরাজ আতা শরিফি

তালেবানের দখলের পর আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়া পিরাজ আতা শরিফি বলেন, আশরাফ ঘানি নিয়ে গিয়েছিলেন শত শত মিলিয়ন, সম্ভবত বিলিয়ন ডলার। অনেকগুলো বড় বড় ব্যাগ ছিল এবং সেগুলো অনেক ভারি ছিল।

প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের গার্ডের জেনারেল বলেন, আমার কাছে একটি সিসিটিভি রেকর্ডিং আছে। যাতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি তার চলে যাওয়ার আগে অনেক টাকা এনেছিলেন। প্রতি বৃহস্পতিবার এভাবে প্রচুর ডলার আনা হত। সাধারণ মানি এক্সচেঞ্জ মার্কেটের জন্য এসব অর্থ আনা হতো। প্রেসিডেন্ট জানতেন শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে। তাই তিনি সমস্ত টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।

ওই জেনারেল নিজের সম্পর্কে জানান, ১৬ আগস্ট তিনি বিমানবন্দরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। এরপর থেকে তিনি ও তার ১৪ সদস্যের পরিবার পালিয়ে পালিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আশরাফ ঘানির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঘানি কখনোই বলেননি, তিনি চলে যাবেন। অথচ পালিয়ে গেছেন এবং আমাকে পেছনে একা ফেলে গেছেন।

ওইদিনের স্মৃতি স্মরণ করে জেনারেল শরিফি বলেন, ১৫ আগস্ট যথারীতি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে কাজে যাওয়ার জন্য আমি বাসা থেকে বের হই। তারপর আমি রাষ্ট্রপতির সামনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে গেলাম। কাবুলের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে কথা বলার জন্য প্রেসিডেন্টের সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু পরে ফোন করে জানতে পারি, প্রেসিডেন্ট প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসার পরিবর্তে বিমানবন্দরে গেছেন। তার সাথে প্রতিরক্ষামন্ত্রীও পালিয়ে গেছেন।

এখন খুবই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জেনারেল শরিফি। তিনি বলেন, যদি তালেবান এখানে আসে, আমি আত্মহত্যা করব। যদি তারা আমাকে ধরে ফেলে তবে তারা আমাকে যেভাবেই হোক হত্যা করবে। কাবুলজুড়ে তালেবান যাদের খোঁজ নিতে পোস্টার ছাপিয়েছে তাদের অন্যতম তিনি।

শরিফি মনে করিয়ে দেন, পোস্টারে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যের জন্য দশ লাখ আফগানি পুরস্কার রয়েছে। আর দশ লাখ আফগানি প্রায় দশ হাজার পাউন্ডের সমান।