advertisement
আপনি দেখছেন

ভারতে অব্যাহত মুসলিম নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে। নরেন্দ্র মোদির সরকারকে এর জন্য দায়ী করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতীয় পণ্য বর্জনেরও আহ্বান জানাচ্ছেন অনেকে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে প্রচারণাও শুরু হয়েছে।

india boycottমধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক বাড়ছে

ট্রিবিউন এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন অজুহাতে ভারতে মুসলিম নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি আসামে নির্মমভাবে মুসলিম হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল হলে তাতে ক্ষোভ বাড়তে থাকে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বেই। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আসামে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে এক মুসলিম ব্যক্তিকে গুলি করছে পুলিশ। পরে পুলিশের সহযোগী এক ফটোগ্রাফার পড়ে থাকা মুসলিমের মরদেহে বারবার লাথি দিচ্ছেন! 

মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও তাদের সহযোগীদের এমন নৃশংসতার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রচারণায় ‘ইন্ডিয়া কিলস মুসলিম’ হ্যাশট্যাগে ভারতের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়। একেইসাথে আসামে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর প্রতিও সমর্থন জানাচ্ছেন আরব মুসলিমরা।

assam muslimআসামে মুসলিমদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়

ভারতের এসব কর্মকাণ্ডে মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিন্দা জানাচ্ছেন। কুয়েতের জাতীয় পরিষদ হিন্দু চরমপন্থীদের নৃশংসতার নিন্দা জানিয়েছে। কুয়েতের পার্লামেন্ট সদস্য শুয়াইব আল-মুওয়াইজরি ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছেন। ওআইসি, ইসলামি দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ এবং গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে।

ওমানের প্রভাবশালী ইসলাম বিশারদ গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আহমেদ আল খলিলি ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ভারতের এই সহিংসতা আসলে সরকারি মদতে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মুসলিম নাগরিকদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন। এটি আমাদের সবার অন্তরে আঘাত করেছে। এ আগ্রাসন বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে আমি মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ইসলামিক শিক্ষাগত, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের (আইইএসসিও) সাবেক পরিচালক আলতওয়াইজরি টুইটে বলেন, নরেন্দ্র মোদির হিন্দু সরকার আন্তর্জাতিক নীরবতা এবং ইসলামী নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে নিয়মতান্ত্রিক নীতি কাঠামোর মধ্যে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।

এদিকে ‘ইসলামফোবিয়া’ বইয়ের লেখক খালেদ বেয়দৌন আসামের সহিংসতাকে রাষ্ট্রীয় মদতে ইসলামবিদ্বেষ এবং হিন্দুবাদী সহিংসতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

টুইটারে তিন লাখ ১৮ হাজারের বেশি ফলোয়ার রয়েছে এমন একজন আরব মুসলিম আবদুর রহমান আল-নাসারও মুখ খুলেছেন। আসামে সহিংসতার ভাইরাল ভিডিওটি যুক্ত করে তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ত্রিশ লাখেরও বেশি হিন্দু ব্যক্তি কর্মরত রয়েছে, তারা প্রতি বছর ভারতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নিয়ে যায়। আমরা তাদের সাথে শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করি, তাহলে ভারতে আমাদের ভাইদের কেন শুধু মুসলিম বলে হত্যা করা হচ্ছে?