advertisement
আপনি দেখছেন

দুর্গাপুজাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর নিন্দা-সমালোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ পেরিয়ে এর রেশ লেগেছে পশ্চিমবঙ্গেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। এ তালিকায় আছেন টালিউড-বলিউডের অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলতে চেয়েছেন। মুসলিমরাও যে হিন্দু ধর্মের সম্মান করে সেটা তুলে ধরাই ছিল তার লক্ষ্য। কিন্তু রক্ষা হয়নি। জোরালো কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে তাকে।

parambrata chattopadhyayপরমব্রতের ফেসবুক পোস্ট

বাংলাদেশের ঘটনাগুলো তুলে ধরে পরমব্রত তার দেওয়া লম্বা পোস্ট লেখেন, ‘বাংলাদেশে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা তুলে ধরে, বিদ্বেষ সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে এটা বলতে থাকাটা উস্কানি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ঘটনাগুলি থেকে যদি প্রমাণ হয় যে বাংলাদেশে হিন্দুরা বিপন্ন, তাহলে ভারতে গত সাত বছরে এরকম অগুনতি ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটে চলেছে (এবং যেগুলি নিয়ে দেশনেতারা অভূতপূর্ব ভাবে চুপ থেকেছেন!) যেগুলি থেকে আরও সহজে প্রমাণ হয় যে ভারতে মুসলমানরা বিপন্ন!’

পরমব্রত স্পট বয় নাসির গাজীর কথা উল্লেখ করে লেখেন, যে পুজোতে প্রত্যেকদিন শুভেচ্ছা জানায় পরমকে। মনে করিয়ে দেয় সরস্বতী পুজোর দিনক্ষণও। বাইরে শুট করতে গিয়ে কোনো দর্শনীয় মন্দিরের সন্ধান পেলে সেটাও নাসিরই এনে দেয় তার কাছে। কথা প্রসঙ্গে নিজের কাঠের মিস্ত্রি সানোয়ার আলীর কথাও উল্লেখ করেন পরমব্রত। পোস্টে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পুজা কমিটির দায়িত্বে থাকা মুসলিমদের কথাও উল্লেখ করেন। কীভাবে তারা নিষ্ঠা সহকারে সব দায়িত্ব সামলান, সেসব কথাও।

parambrataপরমব্রত চট্টোপাধ্যায়

প্রখ্যাত এই অভিনেতা নিজেও আশঙ্কা করছিলেন, তার ভাবনা অনেকের সাথে মিলতে নাও পারে। সেকথাও নিজের লেখায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ‘কিছু গর্বিত তলোয়ারধারি হিন্দু আমি নিশ্চিত এই পোস্টে এসে খিস্তোবেন ... কিছু শরীয়ত আইন কায়েম ও রক্ষার দায়িত্বে থাকা মুসলমানও এসে গাল পাড়বেন আমি জানি... বলে রাখি, আমি বা আমরা কিন্তু জানি, আপনারা দুজনেই আসলে একই দলের লোক। জাস্ট নামগুলো আলাদা, আর তাই সেই সুযোগে আমাদের টুপি পরাবার তালে থাকেন।’

সকলের উদ্দেশে পরমব্রত বার্তা দেন, ‘বাংলাদেশে আমার সমস্ত বন্ধুদের কাছে তাই আমার একান্ত অনুরোধ, কুমিল্লা বা নোয়াখালীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা করুন কোনো দ্বিধা না রেখে, দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করুন। আপনাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে তার বক্তব্যের মাধ্যমে সুবার্তা দিয়েছেন। আপনারাও সেই মৌলবাদবিরোধী সুর বজায় রাখুন...প্রাণের উৎসবের উপর আক্রমণ ভালো লাগে না তো বটেই, তাছাড়াও আরো বড় একটা কারণ হল, এই ঘটনাগুলি সীমানার এই পারে গোঁড়া হিন্দুত্ববাদীদের বড় সুবিধে করে দেয়। তাদের আস্ফালন বাড়ে। ধর্মের জিগির তুলে, এই উদাহরণ টেনে, মানুষের মনে অন্য সম্প্রদায় সম্বন্ধে ঘেন্না জন্মিয়ে রাজনৈতিক মুনাফা তোলার পথ মসৃণ হয়।’

পরমব্রতের আশঙ্কার কথা সত্য করে তার এ পোস্টে সমালোচনার ঝড় তোলেন নেটিজেনরা। ১৬ অক্টোবর করা তার এ পোস্টে নিচে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মতামত দেখা যায়, যার ৯০ শতাংশই তাকে কটাক্ষ করে লেখা।

স্বাগতা মণ্ডল নামে একজন তার দেওয়া মতামাতে লেখেন, হিন্দুদের কষ্টের জন্য কোনও সমবেদনা প্রকাশ নেই, জিহাদীদের জায়েজ প্রমাণ করার জন্য নেমে পড়েছে, ফান্ডিং কোনদিক থেকে আসে, সবাই বুঝতে পেরেছে ...

শুভাশিষ পাণ্ডা তার দেওয়া মতামতে লেখেন, বাংলাদেশেও ছবি চলার জন্য একদম উপযুক্ত পোস্ট....

সৌমেন তপু লেখেন, আপনার কাছে এই দুঃসময়ে এই ধরনের ব্যালেন্স ব্যালেন্স টাইপ স্ট্যাটাস আশা করি নাই। ...

প্রদিপ ইন্দ্রা ঠাট্টা করে লেখেন, হেব্বি ব্যালান্স করেছেন দাদা। হাজার হলেও পেটের দায়ে বড় দায়। ....

দেবশ্রি মিত্র লেখেন, আপনাদের বাংলাদেশে সিনেমা বেচে খেতে হবে বলে কি মানবিকতা বোধও হারিয়ে ফেলেছেন? আর কত নিচে নামবেন? ...

দুই-একটা মতামতে পরমব্রতকে সাধুবাদ জানানো হলেও অধিকাংশই ছিল এরকম।