advertisement
আপনি দেখছেন

আফগানিস্তান থেকে গত আগস্টে চলে যায় মার্কিন সেনাবাহিনী। অনেক সমালোচনা সত্ত্বেও সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ওই ঘটনার প্রায় দুই মাস পর আফগানিস্তানে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ জানালেন, পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে তালেবানের সঙ্গে সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

zalme khaliljad আফগানিস্তানে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে খলিলজাদ বলেছেন, আফগানিস্তানের বিভিন্ন সেক্টরে তালেবানের সঙ্গে তুমুল লড়াই হয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর। ময়দানে বহু চেষ্টা করেও যুদ্ধের গতি পাল্টাতে ব্যর্থ হয় মার্কিন বাহিনী। পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে এক পর্যায়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয় আমেরিকা।

খলিলজাদ বলেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে যুদ্ধে তালেবানের বিরুদ্ধে জেতার কোনো আশা আমরা দেখিনি। হাতে সময়ও ছিল একেবারে অল্প। ফলে তালেবানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আফগান নীতির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেনি আমেরিকা। তারা ক্যালেন্ডার মেনে সেনা প্রত্যাহার করেছে।

return us army from afghanistanআফগানিস্তান ত্যাগ করছে মার্কিন সেনারা, ফাইল ছবি

তালেবানের কাছে কাবুলের আকস্মিক পতনের জন্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিকে দায়ী করেন খলিলজাদ। তার দাবি, ঘানি কাবুল ছেড়ে না পালালে শেষ মুহূর্তে আফগান সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান হতে পারতো।

দোহা শান্তি আলোচনার অন্যতম কান্ডারি জালমে খলিলজাদ আরও বলেন, পরিকল্পনা ছিল, আফগানিস্তানের ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে রাজনৈতিক সমাধান না মেলা পর্যন্ত তালেবানকে কাবুলে ঢোকার সুযোগ দেয়া হবে না। সেই উদ্দেশে কাতারে আলোচনাও চলছিল। কিন্তু ঘানি কাবুল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় সরকারি বাহিনী অস্ত্র ফেলে দেয়। তালেবান সহজেই কাবুল দখল করে।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ার হামলার পর আফগানিস্তানে দুই দশক ধরে যুদ্ধ করেছে আমেরিকা। সেই যুদ্ধের সমাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে খলিলজাদের। দুই বছর ধরে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। কার্যত, তার একক চেষ্টাতেই তালেবানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে আমেরিকা।

কিন্তু গত আগস্ট মাসে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনারা চলে যাওয়ার পর কাবুল দখল করে তালেবান। ব্যর্থ হয়ে যায় খলিলজাদের এতদিনের পরিকল্পনা। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় খলিলজাদ ও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে।

সব হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে কয়েকদিন আগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন জালমে খলিলজাদ।