advertisement
আপনি দেখছেন

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, আর্মেনিয়ান-তুর্কি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী মস্কো। আমরা চাই, আর্মেনিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠুক। তিনি নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, ইয়েরেভান এবং আঙ্কারার মধ্যে মধ্যস্থতার বিষয়টি সমর্থন করে আর্মেনিয়া। নিউজ.এএমের খবর।

maria zakharova russiaমারিয়া জাখারোভা, ফাইল ছবি

খবরে বলা হচ্ছে, আর্মেনিয়ান-তুর্কি দুপক্ষই বেশ কয়েকবার ঘোষণা করেছে, তারা সেই প্রচেষ্টাই চালাচ্ছে। রাশিয়া ভবিষ্যতে এ কাজে অবদান রাখতে প্রস্তুত। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হলে নিঃসন্দেহে এই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। এছাড়া একটি বন্ধুত্বপূর্ণ-প্রতিবেশী পরিবেশ তৈরি করতে এটি সাহায্য করবে।

জাখারোভা বলছেন, আমরা অবশ্যই তথ্য সরবরাহ করব। যতক্ষণ না দুপক্ষ স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরে আসে ততক্ষণ রাশিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাবে। যেকোনো সহযোগিতায় প্রস্তুত রাশিয়া।

আর্মেনিয়া এবং তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে অস্তিত্বহীন। দেশ দুটির সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে শত্রুতাপূর্ণ। ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পরপরই তুরস্ক আর্মেনিয়াকে স্বীকৃতি দেয়। তবে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৩ সালে তুরস্ক আজারবাইজানের সমর্থনে আর্মেনিয়ার সীমান্ত বন্ধ করে নাগর্নো-কারাবাখ যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া জানায়।

২০০৮-২০০৯ সালে দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। ২০০৯ সালের অক্টোবরে উভয়পক্ষ সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে কয়েকটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। তবে চুক্তিগুলো কখনই অনুমোদন লাভ করেনি। পরে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে আর্মেনিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিগুলো বাতিল করে দেয়।

আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যকার বিতর্কিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। এক্ষেত্রে আজারবাইজানের পক্ষাবলম্বন করে আসছে তুরস্ক। ওই বিরোধের অবসান ঘটাতে মধ্যস্থতা করার জন্য ১৯৯২ সালে ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সম্মেলনে যোগ দেয় ক্ষুব্ধ তুরস্ক। এর পর থেকে আর্মেনিয়া-তুরস্কের সম্পর্ক ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। কারণ আর্মেনিয়ান সামরিক বাহিনী নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চলে সাফল্য অর্জন করতে থাকে।

২০০২ সালে তুরস্কের সাধারণ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)। প্রধানমন্ত্রী হন রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তুরস্কের রাজনীতিতে এ পরিবর্তন ছিল আর্মেনিয়ানদের জন্য আশাব্যঞ্জক খবর। এরদোয়ান আর্মেনিয়ার সাথে সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করেন। সর্বশেষ নাগার্নো-কারাবাখে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধে তুরস্ক আজারবাইজানকে সমর্থন দিলে আজারবাইজান যুদ্ধে জিতে যায়। শুরু হয় আর্মেনিয়ার সাথে তুরস্কের নতুন টানাপোড়েন।