advertisement
আপনি পড়ছেন

ভারতজুড়ে চালানো একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্ত্রীর গায়ে স্বামীর হাত তোলার মধ্যে যুক্তি আছে বলে মনে করেন দেশটির ৩০ শতাংশ নারী। দেশটির তিনটি রাজ্যে ৭৫ শতাংশের বেশি নারীর ধারণা এমনই। তুলনায় কম সংখ্যক পুরুষই এই কাজকে যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন।

wife beatingফাইল ছবি

ভারতীয় গণমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সেখানে দেশজুড়ে জাতীয় পারিবারিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা-৫ চালানো হয়। সেই সমীক্ষায় প্রশ্ন করা হয়েছিল, স্ত্রীকে পেটানো স্বামীর পক্ষে কি যুক্তিযুক্ত? এ প্রশ্নের উত্তরে দেশের অন্তত ১৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের ৩০ শতাংশ নারীর উত্তর ছিল ইতিবাচক। তারা মনে করেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে স্ত্রীদের গায়ে স্বামীদের হাত তোলার মধ্যে যুক্তি আছে।

অন্তত তিনটি রাজ্যে ৭৫ শতাংশেরও বেশি নারীর ধারণা, স্বামীরা যে তাদের স্ত্রীদের গায়ে হাত তোলে, এর মধ্যে যুক্তি রয়েছে। তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্র প্রদেশের ৮৪ শতাংশ ও কর্ণাটকের ৭৭ শতাংশ নারী বউ পেটানো স্বামীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এর বাইরে মণিপুরে ৬৬ শতাংশ, জম্মু ও কাশ্মিরে ৪৯ শতাংশ, মহারাষ্ট্রে ও পশ্চিমবঙ্গে ৪৪ শতাংশ নারী মনে করেন স্ত্রীকে পেটানোর মধ্যে যুক্তি রয়েছে।

family violanceএ ধরনের নির্যাতন বন্ধের পক্ষে চলছে অনেক আন্দোলন

নারীদের একটা বড় অংশের দাবি, ঘর ও বাচ্চাদের অবহেলা করলে, শ্বশুরবাড়ির প্রতি অশ্রদ্ধা, বেশি মুখরা হওয়া, বিভিন্ন সন্দেহজনক কারণ, জৈবিক চাহিদা পূরণে অসম্মতি জানানো, স্বামীকে না বলে বাইরে যাওয়া, ঘরের কাজকর্ম না করা, ভালো খাবার তৈরি না করা ইত্যাদি কারণে স্বামীরা স্ত্রীদের গায়ে হাত তুলতেই পারেন।

বউ পেটানো কি ঠিক? এই প্রশ্নে বউপেটানো স্বামীদের সমর্থনের তালিকায় সবার শেষে রয়েছে হিমাচলপ্রদেশ। সে রাজ্যের মাত্র ১৪.২ শতাংশ পুরুষ এবং ১৪.৮ শতাংশ নারী মনে করেন, কাজটা সঠিক। বাকিরা এই কাজকে ভুল বলেই মনে করেন।

নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ডিরেক্টর এ বিষয়টিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিফলন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নারীদের একাংশের মনের গভীরে প্রভাব ফেলেছে। ফলে তারা মনে করছেন, পরিবার ও স্বামীর সেবা করে যাওয়াটাই তাদের প্রধান কাজ।