advertisement
আপনি পড়ছেন

আফগান রাষ্ট্রদূতকে স্থান না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ, তার কড়া সমালোচনা করেছে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মনোনীত দূত সুহেল শাহিন বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নেয়া হয়নি। এতে তারা আফগান জনগণকে তাদের বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

suhail shaheen cআফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের মনোনীত দূত সুহেল শাহিন (মাঝে)

এর আগে গত বুধবার সাধারণ পরিষদের নয় সদস্যের ক্রেডেনশিয়াল কমিটি আফগানিস্তানে তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের দূতকে জাতিসংঘে প্রতিস্থাপনের আবেদন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের দূতের ব্যাপারেও তারা একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতিসংঘের ওই কমিটির সভাপতিত্ব করেন সুইডেনে জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত আনা এনস্ট্রোম। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কমিটি উভয় দেশের ক্ষেত্রেই অনুমোদন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অর্থ হল সাধারণ পরিষদের পরবর্তী অধিবেশন না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী বছরের বেশিরভাগ সময় জাতিসংঘে আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করা হবে না।

un buildingজাতিসংঘ ভবন

শিগগিরই এই অধিকার আফগানিস্তানের সরকারের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সুহেল শাহিন এক টুইটে বলেন, এর মাধ্যমে আমরা আফগানিস্তানের জনগণের সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে ও দক্ষতার সাথে সমাধান করতে পারব। সেই সাথে বিশ্বের সাথে ইতিবাচক ধারায় যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম হবো।

আফগানিস্তানে নতুন সরকার আসার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বৈদেশিক রিজার্ভ আটকে রাখে। এর ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে মানবিক সংকট তৈরি হয়। এর মধ্যেই জাতিসংঘে আফগানদের প্রতিনিধিত্ব প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্তটি এলো। একাধিক বৈশ্বিক সংস্থা এরই মধ্যে আফগানিস্তানে আসন্ন মানবিক বিপর্যয় সম্পর্কে সতর্ক করেছে এবং এর মোকাবেলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

গত আগস্টে তালেবান কাবুলের দখল নেয়ার পর তারা জাতিসংঘে নিযুক্ত আগের সরকারের দূতকে অপসারণ করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই স্থানে তারা নিজেদের দূতকে প্রতিস্থাপন করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের জান্তা সরকারও দূত প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত বিষয়ে জাতিসংঘ কমিটির সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে।