advertisement
আপনি পড়ছেন

‘ভৌতিক বিয়ে’র নামে চীনে কুসংস্কার চালু আছে। এ বিয়ের উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তির (অবিবাহিত) জন্য একজন সঙ্গীর জোগান দেওয়া। কিছু বয়স্ক চীনার মধ্যে এখনো নিখাঁদ বিশ্বাস যে, লোকজন যদি মৃত্যুর পর তার সে ইচ্ছা পূরণ না করে, তবে সে শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারবে না। আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এ বিয়ের জন্য রয়েছে ম্যাচমেকারও। যারা মৃত বর বা কনের সন্ধান করে দেন, তারা পারিশ্রমিক হিসেবে পান দেড় লাখ ইউয়ান (২০ লাখ টাকা)। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

ghost marriage chinaচীনে ভৌতিক বিয়ের রমরমা ব্যবসা

চলতি সপ্তাহের ঘটনা। পূর্ব চীনের শানডং প্রদেশের একজন মহিলা মারা গিয়েছিলেন আত্মহত্যা করে। তাকে দাহ করার পর ছাই বিক্রির জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তা মানেননি। কিন্তু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মী চুরি করে তা বিক্রি করে দিয়েছে। কারণ, কেউ একজন তার মৃত ছেলের কবরে ওই ছাই রাখতে চেয়েছিল। উদ্দেশ্য, ‘ভৌতিক বিয়ে’। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।

১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট সরকার এই প্রথাটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছিল। এরপর কমে গেলেও প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে, বিশেষ করে উত্তর চীনে ‘ভৌতিক বিয়ে’র এ প্রথা এখনো অব্যাহত আছে। মৃতদের বিয়ে হয় জীবিতদের মতোই। অভিভাবকরা ম্যাচমেকারের কথার মাধ্যমে তাদের সন্তানদের জন্য একটি উপযুক্ত মিল খোঁজেন। এরপর তারা একটি বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং একটি নতুন কবর খুঁড়ে সেগুলোকে একসঙ্গে দাফন করেন।

ghost marriage china innerচীনে ভৌতিক বিয়ের রমরমা ব্যবসা

নারীদেহের দাম সাধারণত বয়স, শরীরের সতেজতা, দেহের গড়ন, চেহারা, পারিবারিক বৃত্তান্তের ওপর নির্ধারিত হয়। যেমন- ট্রাফিক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া মহিলার চেয়ে সাধারণ রোগে মারা যাওয়া মহিলার দাম বেশি দেওয়া হয়।

৩০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন ম্যাচমেকার বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে বাজারটি সমৃদ্ধ হয়েছে। ১৯৯০-এর দশকে একটি ম্যাচের জন্য পাওয়া যেত প্রায় পাঁচ হাজার ইউয়ান। ২০০০-এর দশকে তা ৫০ হাজার ইউয়ানে উন্নীত হয়। ২০১০ সালের মধ্যে এক লাখ ইউয়ান হয়ে যায়। ২০১৬ সালের পর থেকে প্রতিটি বর বা কনের জন্য গুনতে হচ্ছে এক লাখ ৫০ হাজার ইউয়ান।