advertisement
আপনি পড়ছেন

বিশ্বজুড়ে আবারো ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে মরণঘাতী করোনাভাইরাস। বিশেষ করে ভাইরাসটির নতুন ও অতিসংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে দেশে দেশে আবারো টালমাটাল অবস্থা তৈরি হচ্ছে। আরোপ করা হচ্ছে নতুন করে বিধিনিষেধ। ফলে শঙ্কা ফের শঙ্কা দেখা দিয়েছে অর্থনীতির চাকা মন্থর হওয়ার।

world bank global economyবৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অশনিসংকেত, ফাইল ছবি

এমন পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অশনিসংকেত দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। জাতিসংঘের এ অঙ্গ সংস্থাটি বলছে, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের প্রভাবে সামনের ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি।

চলতি ২০২২ সালে তো কমবেই, পরে বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধি আরও কমবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তারা বলছে, করোনা সংকটে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে ‘হার্ড ল্যান্ডিংয়ের’ ঝুঁকির মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ এবং বৈষম্যে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দেবে।

বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার, ১২ জানুয়ারি, এমন শঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে একটি শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের পর সুস্পষ্ট মন্দার মধ্যে প্রবেশ করছে বিশ্ব অর্থনীতি। এ ক্ষেত্রে নতুন হুমকি হয়ে আসছে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট। যা ঋণ, মুদ্রাস্ফীতি এবং আয় বৈষম্য বৃদ্ধির ফলে উদীয়মান এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়, গেল বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি ২০২২ সালে তা কমে হতে পারে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। পরের বছর ২০২৩ সালে তা ভয়াবহভাবে কমে যাবে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩ দশমিক ২ শতাংশে।

অবশ্য পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল করোনা সংকটের মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে। এই অঞ্চলে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৫ দশমিক ২ শতাংশ, চলতি ২০২২ সালের জন্য যা প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ।

চলতি ২০২২ সালে ইউরোপ এবং মধ্য এশিয়া প্রবৃদ্ধি বাড়বে ৩ শতাংশ। কিন্তু ২০২৩ সালে গিয়ে তা কমে হবে দাঁড়াবে ২ দশমিক ৯ শতাংশে। ২০২৩ সালে ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে প্রবৃদ্ধির হার হবে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২ সালের জন্য যা প্রাক্কলন করা হয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধির হার কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হবে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে। যেখানে ২০২২ সালে প্রাক্কলন করা হয় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলেও প্রবৃদ্ধির হার কমবে। এ অঞ্চলে ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধির হার কমে হবে ৬ শতাংশ। ২০২২ সালে যা প্রাক্কলন করা হয় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

তবে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করবে সাব-সাহারান আফ্রিকান অঞ্চলে। ২০২২ সালে সেখানে প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সেটা ২০২৩ সালে সামান্য বেড়ে হবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।