advertisement
আপনি পড়ছেন

করোনা সংক্রমণ রুখতে ভয়াবহ পদক্ষেপ নিয়েছে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রশাসন। কারও করোনা সন্দেহ হলেই নারী-শিশু সবাইকে পাকড়াও করা হচ্ছে। জোর করে বাসে তুলে সোজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে। ঢুকানো হচ্ছে লোহার বাক্সে। বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। নিউইউর্ক টাইমসের খবর। 

china faces omicron challengeনারী-শিশুকে লোহার বাক্সে ঢুকাচ্ছে চীন!

চিড়িয়াখানার মতো সারি সারি একটার পর একটা বসানো হয়েছে লোহার বাক্স। এসব বাক্সের মধ্যে তেমন কিছুই নেই। শুধু একটা কাঠের চৌকি আর একটা টয়লেট। ছোট্ট এই বাক্সের মধ্যেই ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা হচ্ছে। কোনো একটা গ্রাম, পাড়া বা মহল্লায় একজনেরও যদি করোনার লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে ওই গ্রাম বা মহল্লার সবাইকেই কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হচ্ছে।

ভয়ানক এই কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার কথা জানাই যেত না, যদি না দেশটির এক ব্লগার বিষয়টি ফাঁস করে দিতেন। গত রোববার, ৯ জানুয়ারি, সংপিংগ্যাং নামের ওই ব্লগার তার টুইটার হ্যান্ডেলে একাধিক ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন।

তাতে দেখা যাচ্ছে, একটি মাঠজুড়ে বিশাল এক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে সারি সারি অসংখ্য বাক্সসদৃশ ঘর। মানুষ বোঝাই শত শত বাস সেই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ঢুকছে। এরপর সারি সারি বসানো বাক্সের মধ্যে ঢুকানো হচ্ছে মানুষকে। ভিডিওতে বাক্সের ভেতরের দৃশ্যও দেখানো হয়েছে।

ছোট্ট একটি জায়গায় একটা কাঠের চৌকি আর খাবার রাখার জন্য চোট্ট একটি টেবিল। পাশেই উঁচু কমোডের টয়লেট। রীতিমতো ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওগুলো। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এগুলো কোনো সিনেমার দৃশ্য বলে মনে হলেও আসলে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের অংশ।

আগামী মাসেই শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। তার আগেই চীনকে ‘করোনা শূন্য’ করতে চায় জিনপিং সরকার। আর তা বাস্তবায়নেই লাখ লাখ মানুষকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ভরছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি কঠোর লকডাউনের কারণে চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হওয়ায় চীনের এক গর্ভবতী নারীর ভ্রুণ নষ্ট হয়েছে। এ নিয়ে দেশটির ‘করোনা শূন্য’ নীতির সীমা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালে চীনে প্রথম শনাক্ত হয় করোনাভাইরাস।

এদিকে লকডাউনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা চীনা নারীর এক ডাইরি রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গেছে। যাকে দুদিন আগেও কেউ চিনতো না, সেই তিনিই রীতিমতো ‘সেনশেসন’ হয়ে উঠেছেন। চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গুয়াংডংয়ের ওই নারীর নাম ওয়াং।

গত রোববার নিজের বিয়ের জন্য সম্ভাব্য এক পাত্রের সঙ্গে দেখা করতে তিনি হেনান প্রদেশের ঝেংঝু শহরে যান। সম্প্রতি শহরটির কিছু অংশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পাত্রী ওয়াং শহর থেকে বেরোনোর আগেই সেখানে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ফলে পাত্রের বাড়িতেই আটকে পড়েন পাত্রী। অদ্ভুত এই অভিজ্ঞতার কথা তিনি নিজের ডাইরিতে লিখেছেন। আরও কিছু ভিডিও শেয়ার করে তিনি ভাইরাল হয়ে গেছেন রাতারাতি।