advertisement
আপনি পড়ছেন

শ্রীলঙ্কার মুসলমানরা ভাল নেই। তারা প্রতিনিয়ত বৈষম্য আর হয়রানির শিকার হচ্ছে। কখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে আবার কখনও সাম্প্রদায়িকভাবে তারা নানা নিপীড়নের শিকার। ঠুনকো অভিযোগ তুলে শ্রীলঙ্কায় মুসলমান নারী-পুরুষদের জেলখানায় ঢোকানো হচ্ছে। দেখার কেউ নেই। এ যেন এক ভয়াল জনপদ। বিবিসির প্রতিবেদনে একটি ভয়ঙ্কর চিত্র উঠে এসেছে।

sri lankan muslims easter sunday bombing colombo২০১৯ সালে কলম্বোয় ইস্টার সানডে হামলার স্থানে মোমবাতি জ্বালিয়ে মুসলমানদের শ্রদ্ধা

মারাম খলিফার দিনগুলো বেশিরভাগই তার স্বামীকে বাড়িতে আনার উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টার কাজে চলে যায়। পাশাপাশি নিজের বাচ্চার দেখাশোনাও তাকে করতে হয়। তার স্বামীর নাম হেজাজ হিজবুল্লাহ। তিনি একজন বিশিষ্ট শ্রীলঙ্কার নাগরিক অধিকার আইনজীবী।

সন্ত্রাসবিরোধী অভিযোগে প্রায় ২০ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন হিজবুল্লাহ। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক বক্তৃতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ এনেছেন। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ তরুণ মুসলিম ছেলেদের কাছে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, যাতে তারা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়।

হিজবুল্লাহ সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক। তিনি ২০২১ সালের এপ্রিলে অভিযোগ গঠনের আগে এক বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। এখনও তিনি কারাগারে রয়েছেন। চলতি মাসের শেষের দিকে তার বিচার শুরু হওয়ার কথা। তার স্ত্রী দৃঢ়ভাবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মারাম খলিফা বিবিসিকে বলছেন, তার স্বামী স্পষ্টভাষী ছিলেন। সাধারণভাবে মুসলিম অধিকার এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত সক্রিয়। শ্রীলঙ্কায় যদি কেউ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায়, তাহলে হিজবুল্লাহর জীবনের ঘটনা তার জন্য একটি বার্তা।

হিজবুল্লাহকে প্রথমে ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হাই-এন্ড হোটেল এবং গির্জা লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় ২৬০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে একজন বোমা হামলাকারীর সাথে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ ছিল। তার আইনজীবীরা বলেছেন, প্রসিকিউশন পরে এই অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করে নেয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত বছর হিজবুল্লাহকে সরকারের সোচ্চার সমালোচক ও একজন ’বিবেকের বন্দী’ বলে অভিহিত করেছিল।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, হিজবুল্লাহর গ্রেপ্তার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চলমান হয়রানির চাক্ষুষ নজির। শ্রীলঙ্কায় জাতিগত সংঘাত নিরবে চলছে। ২২ মিলিয়ন বা ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিতে মুসলিম জনগোষ্ঠী মাত্র ১০ শতাংশ। অধিকাংশ মানুষ প্রধানত সিংহলি বৌদ্ধ।