advertisement
আপনি পড়ছেন

সম্প্রতি সরকার ভেঙে দিয়ে নিজের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদ। এর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করে আসছিল বিরোধী রাজনৈতিক শিবির ও সাধারণ মানুষ। এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর নামে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করে বিধিনিষেধ দিয়েছে দেশটির সরকার। এর প্রতিবাদে শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, দেশটির রাজধানী তিউনিসে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

tunisia police use water cannon protestersস্বাস্থ্যবিধির অজুহাতে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা, বিক্ষোভে উত্তাল তিউনিস

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে শুক্রবার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীরা তিউনিসের মূল পয়েন্টে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে তিউনিসিয়ার পুলিশ।

খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা যাতে হাবিব বোরগুইবা এভিনিউতে জমায়েত হতে না পারে, সেজন্য এর আশপাশে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। মধ্য তিউনিসের প্রধান এই রাস্তাটি ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবাদ বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু। এর ২০১১ সালে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল এখান থেকেই।

রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপন্থী ইসলামপন্থী এন্নাহদা পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের সংসদ স্থগিত, নির্বাহী ক্ষমতা গ্রহণ এবং সংবিধান পুনঃলিখনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, যাকে তারা একটি অভ্যুত্থান বলে আসছে। তবে শুক্রবারের বিক্ষোভটি ছিল বিশেষ করে করোনার বিধিনিষেধের নামে বিরোধীদের আন্দোলন দমানোর প্রতিবাদে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে কয়েক ডজন পুলিশের গাড়ি রাখা ছিল। এ ছাড়া একই রাস্তায় অবস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের বাইরে দুটি জলকামান রাখা ছিল। শত শত বিক্ষোভকারী যখন মূল বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করে তখন পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে এবং জলকামান ব্যবহার করে। এর আগে গত মঙ্গলবার তিউনিসয়া সরকার যেকোনো ধরনের জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

ছাইমা ইসা নামের এক বিরোধী কর্মী বলেন, আজ বিরোধীদের প্রতি সাইদের শক্তি ব্যবহার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর এই ধরনের পদক্ষেপ আমাদের তিউনিসিয়াকে ব্যারাকে পরিণত করেছে, যা খুবই দুঃখজনক।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এন্নাহদা পার্টি এবং অন্যান্য দলগুলো সরকারের সমালোচনা করে বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা প্রবর্তন এবং রাত্রীকালীন কারফিউ জারি যতটা না স্বাস্থ্যবিধির জন্য, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক কারণে, যাতে মানুষের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দমানো যায়।