advertisement
আপনি পড়ছেন

ভারতের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক জেনারেল বিপিন রাওয়াত গত ৮ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর কুন্নুরে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন। রাওয়াতের স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াতসহ কপ্টারে থাকা ১৪ জন আরোহীর সবাই মারা যান। দুর্ঘটনার পেছনে জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র খোঁজা হলেও শেষ পর্যন্ত সেসব কিছুর দেখা মেলেনি। তদন্তে জানা গেছে, খারাপ আবহাওয়ায় বিভ্রান্ত হয়ে পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে দুর্ঘটনায় পতিত হয় হেলিকপ্টারটি।

gen rawatজেনারেল বিপিন রাওয়াত

জানা গেছে, সুলুরের সেনা ছাউনি থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার এমআই সিরিজের কপ্টারটি ওয়েলিংটনের সেনাঘাঁটির দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ভেঙে পড়ে। নীলগিরি পর্বতের নানজাপ্পান চাথীরামের কাত্তেরি পার্কের জঙ্গলে ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায় কপ্টারে। প্রথমে দুই তিনজন নিহত হওয়ার খবর দেয়া হলেও এক পর্যায়ে দেশটির সেনাবাহিনীই জানায়, ১৪ যাত্রীর ১৩ জনই ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। অন্যজন মারা গেছেন কয়েকদিন পর।

বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। বিমানবাহিনীর গঠিত সেই কমিটি প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ বা অন্তর্ঘাত নয়। দেশের প্রথম সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের কপ্টার দুর্ঘটনার জন্য দায়ী খারাপ আবহাওয়া। চূড়ান্ত পর্যায়েও তদন্তের মাধ্যমে সেটিই প্রমাণিত হয়।

rawat accidentবিধ্বস্ত কপ্টারে আগুন

বিমানবাহিনীর ‘কোর্ট অব এনকোয়ারি’ জানায়, পাহাড়ি এলাকার খারাপ আবহাওয়া ও ঘন মেঘের মধ্যে কপ্টারটি ঢুকে পড়াতেই বিপত্তি ঘটে। বিভ্রান্ত হন পাইলট, হারিয়ে ফেলেন নিয়ন্ত্রণ। বিমানের পরিভাষায় যাকে বলা হয়, কন্ট্রোল্ড ফ্লাইট ইনটু দ্য টেরেন (সিআরএফটি)। সিআরএফটি তখনই ঘটে যখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা কোনো ফ্লাইট আচমকা নিয়ন্ত্রণে অক্ষম পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায়। যখন পাইলটের আর কিছু করার থাকে না অথবা সে পরিস্থিতির চাপে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

দুর্ঘটনাগ্রস্ত কপ্টারটির ডাটা রেকর্ডার, ভয়েস রেকর্ডার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদের পর হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ও পাইলটের সাময়িক ভুলকেই দুর্ঘটনার কারণ বলে মনে করছে কোর্ট অব এনকোয়েরি।

অবশ্য তদন্তের আগে এই দুর্ঘটনাকে কখনো মাওবাদীদের হামলা বলে আখ্যায়িত করা হয়। আবার কখনো এটিকে পাকিস্তান বা চীনের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল হিসেবে দাবি করা হচ্ছিল। কিন্তু ঘটনার তদন্তে অন্য কিছুই পাওয়া গেল।