advertisement
আপনি পড়ছেন

স্বীকৃতি না দেয়া এবং অন্যদের স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসলামিক আমিরাত আফগানিস্তান। দেশটি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের এ ধরনের কার্যকলাপ অব্যাহত থাকলে মার্কিন স্বার্থ হুমকির মুখে পড়বে। আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এমন সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজ উদ্দিন হাক্কানি।

sirajuddin haqqani 1সিরাজ উদ্দিন হাক্কানি

আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, তালেবান প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি না দেয়ার অর্থই হচ্ছে আফগান জনগণের বিরুদ্ধে শত্রুতার দরজা পুরোপুরি খুলে রাখা। ওয়াশিংটন কেবল নিজে যে স্বীকৃতি দিচ্ছে না তা নয়, বরং তারা তালেবানের প্রতি আন্তর্জাতিক অন্যান্য অংশের সমর্থন আদায়ের পথেও বাধা সৃষ্টি করছে। বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তালেবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিতে বোঝা যাচ্ছে, আমেরিকার ব্যাপারে তাদের নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। দুই দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকার পর গত ১৫ আগস্ট তালেবান আবারো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর পর থেকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, স্বীকৃতি দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো তাড়াহুড়া নেই। মার্কিন স্বীকৃতি পেতে হলে বেশ কিছু বিষয়ে তালেবানের নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।

us embassy in kabulকাবুলে মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্র যে শুধু তালেবানকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না, তা-ই নয়, একইসঙ্গে বিপুল অর্থ-সম্পদ আটকে দেয়ায় আফগান সরকার ও জনগণকে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। ব্যাংকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জনগণের কাছে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছে তালেবান। ধারণা করা হচ্ছে, এ পদ্ধতিতে তালেবান সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে আমেরিকা।

তালেবান সরকার অভিযোগ করেছে, বিভিন্ন শর্তারোপ করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বীকৃতি না দেয়ায় এর প্রভাব পড়েছে অন্যদের ওপরও। তাদের স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপও মার্কিন নীতি অনুসরণ করছে। তালেবান প্রশাসন আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন পর্যন্ত তালেবানকে স্বীকৃতি না দিচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত ইউরোপও তালেবানকে স্বীকৃতি দেবে না।

এদিকে তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরাজউদ্দিন হাক্কানি যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের হুমকি দেননি। কারণ তারা দোহা চুক্তির প্রতি তাদের সম্মান প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছেন। ফলে যে হুমকির কথা বলা হচ্ছে, তা আসলে সঠিক নয়।