advertisement
আপনি পড়ছেন

করোনার কয়েক দফা ঢেউয়ে নাস্তানাবুদ হয়েছে ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ। এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারত। তবে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে করোনা সংক্রমণ বা মৃত্যুর হার ছিল অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেক কম। স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা জানান, সেখানকার খাদ্যাভ্যাসের অন্যতম অনুষঙ্গ শিদল বা চ্যাঁপাশুটকি। আর তাতেই ঠেকানো গেছে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু।

shidolচ্যাঁপা শুটকি

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর অধিকাংশ বাসিন্দার বিশ্বাস, শিদল যেমন ম্যালেরিয়ার যম, তেমনি এটি গত কয়েক মাস ধরে কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণও ঠেকাচ্ছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ তথা আইসিএমআরের তথ্য বলছে, নাগাল্যান্ড-মিজোরামে এখন পর্যন্ত যথাক্রমে ২৩৮ এবং ৮৯৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। চার মাসে মেঘালয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১৮ জন, সুস্থ হয়েছেন ৬৬ জন। মারা গেছেন মাত্র দুজন। আবার অরুণাচল প্রদেশে মোট আক্রান্ত ৪৬২ জন, মৃত্যু হয়েছে মাত্র ৩ জনের।

এই বিষয়ে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বায়ো কেমিস্ট্রির বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. কৈলাস ভট্টাচার্য বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আদিবাসী ও জনজাতিদের মধ্যে পুঁটিমাছ মাটির তলায় রেখে শুকিয়ে পরে রান্না করে খাওয়া অভ্যাস। শুকিয়ে মাটির তলায় রাখার ফলে এতে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। তবে তা কতটা বিজ্ঞানসম্মত তা এখনও যাচাই করা হয়নি।

corona 1চ্যাঁপাশুটকিতেই ঘায়েল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের করোনা!

জানা গেছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আদিবাসী ও জনজাতিদের অন্যতম প্রিয় রেসিপি ‘শিদল শুঁটকি’। তাদের মতে, ম্যালেরিয়া আটকানোর অন্যতম পথ্য এটি। পুঁটিমাছ একটি পাত্রে তেল-হলুদ মাখিয়ে মুখ বন্ধ করে বেশ কয়েকমাস মাটির নিচে রাখা হয়। চার থেকে ছয় মাস পর এটি খাওয়া যায়। এই রেসিপি যেমন সুস্বাদু তেমনই অবিশ্বাস্য এর ম্যালেরিয়া রুখে দেওয়ার ক্ষমতা। আসামের কার্বি-আংলঙ ম্যালেরিয়া অধ্যুষিত এলাকা। সেখানকার অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার এই শিদল। বাড়ি থেকে হোটেল সর্বত্র পাওয়া যায়। এমনকি মেঘালয়, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরামেও প্রিয়-ডিশ শিদল।

তবে অন্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর দূষণ দেশের অন্য অংশের তুলনায় অনেকটাই কম। আন্তর্জাতিক যোগাযোগও তুলনামূলক কম। করোনা সংক্রমণের পিছনে এগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। এছাড়া পাহাড় অধ্যুষিত হওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষদের ‘লাং ক্যাপাসিটি’ বা ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বেশি। কোভিড-মৃত্যু হার কম হওয়ার পিছনে এটাও একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।