advertisement
আপনি পড়ছেন

প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার কিনছেন ৪০ শতাংশ ব্রিটিশ। গত শুক্রবার প্রকাশিত ব্রিটিশ সরকারি সংস্থা অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্স (ওএনএস) এক জরিপের ফলাফল হিসাবে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। মনে করা হচ্ছে, বিশ্বে সস্তা খাবারের স্বর্ণযুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ান।

grocery foodবিদায় নিচ্ছে সস্তা খাবারের স্বর্ণযুগ

প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিল করোনা। এরপর বিশ্বের অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ। দেশে-দেশে মূল্যস্ফীতির খাঁড়ায় কাটা পড়ছে নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনের গতি। আর সেই অস্বাভাবিকতার হাত থেকে রেহাই পায়নি ইউরোপের স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র ব্রিটেনও।

সস্তা খাবারের আশা সেখানকার মানুষের কাছে সুদূর পরাহত, দুঃস্বপ্ন। নিয়মিত সঞ্চয় তো দূরের কথা আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে কমিয়ে দিয়েছেন নিত্যকার ব্যয়।

সমীক্ষার ফলাফলে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে সস্তা খাবারের স্বর্ণযুগ শেষ। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে দুজন কম খাবার কিনছেন। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস, এপ্রিলের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ হার দেশটির ইতিহাসে ১৯৮২ সালের পর সর্বোচ্চ। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এ হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

ব্রিটেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম সুপারমার্কেট চেইন সেন্সবারিস পিএলসির সাবেক প্রধান জাস্টিন কিং জানান, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ধাক্কা পণ্যের দাম উলে­খযোগ্য হারে বাড়িয়ে তুলেছে। এজন্য ক্রেতারা এখন কীভাবে তাদের অর্থ ব্যয় করবেন তা নিয়ে কঠিন দ্বিধার মুখোমুখি হয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা সম্ভবত সস্তা খাবারের স্বর্ণযুগ অতিক্রম করছি। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। মানুষ তাদের পারিবারিক বাজেটে অগ্রাধিকারভিত্তিতে খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ব্রিটেনের সব প্রধান সুপারমার্কেটের প্রতিনিধিত্বকারী ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের (বিআরসি) প্রধান নির্বাহী হেলেন ডিকিনসন বলেন, বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে। সুপারমার্কেটের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সীমিত রয়েছে। কিন্তু খাদ্য শিল্পে বিদ্যমান চাপ খুব সহজে কমবে বলে মনে হচ্ছে না।

জরিপে অংশগ্রহণ করা প্রাপ্তবয়স্কদের ১০ জনের মধ্যে নয়জনই ওএনএসকে বলেছেন, চলতি মাসে তাদের ব্যয়ের পরিমাণ গত মাসের তুলনায় বেশি ছিল। এর আগে নভেম্বরে যখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন ব্যয় বাড়ার কথা বলা ব্রিটিশদের হার ছিল মাত্র ৬২ শতাংশ।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল খাদ্য ও জ্বালানির দাম নিয়ে। ৪০ শতাংশ মানুষ আশঙ্কা করছে, আগামী ১২ মাসে তারা কোনো অর্থ সঞ্চয় করতে পারবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশরা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন।