advertisement
আপনি পড়ছেন

যে কোনো দেশের জন্য খারাপ অবস্থা আসতেই পারে। শ্রীলঙ্কার বর্তমান যে অবস্থা, গত শতাব্দীর শেষদিকে এমন অবস্থার মুখে পড়েছিল ভারতও। তারা সেই পরিস্থিতি যেভাবে সামলে নিয়েছে, শ্রীলঙ্কার পক্ষেও তা সম্ভব। সেজন্য সবগুলো রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতা হর্ষ ডি সিলভা এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন। খবর ইন্ডিয়াটুডে।

sri lankan mp harsha de silvaশ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট সদস্য ও বিরোধী দলীয় নেতা হর্ষ ডি সিলভা

ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হর্ষ ডি সিলভা বলেন, এই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে ১৯৯১ সালে ভারতও একই রকম পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল। সে সময় সবগুলো রাজনৈতিক দল একজোট হয়ে পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করে। ড. মনমোহন সিং ও মন্টেক সিং আলুওয়ালিয়ার দক্ষতা-অভিজ্ঞতাও বেশ কাজে দিয়েছিল সংকট উত্তরণে।

তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। কারণ এখনো যদি তারা বিচ্ছিন্ন থাকে তাহলে সমাধান পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হবে। এক্ষেত্রে প্রধান উদ্যোগ নিতে হবে প্রেসিডেন্টকে। তাকে এমন এক মঞ্চ তৈরি করতে হবে, যেখানে সবগুলো রাজনৈতিক দল একসঙ্গে এসে দাঁড়াতে পারে।

srilankan rallyশ্রীলঙ্কায় সরকারবিরোধী আন্দোলন

এদিকে, শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিছু সময়ের জন্য কারফিউ তুলে নেওয়া হচ্ছে। এর আগে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বেশ কয়েকবারের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রনিল বিক্রমাসিংহকে। ইতোমধ্যে তিনি শ্রীলঙ্কা পদুজানা পেরামুনা দলের চারজনকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যে গত মাসেই শ্রীলঙ্কা প্রশাসন এক ঘোষণায় জানায়, দেশের রিজার্ভের যে পরিস্থিতি তাতে এ মুহূর্তে তাদের পক্ষে ঋণদাতাদের অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে তারা আসলে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে। এর আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে শুরু করে।

বিষয়টি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে লাগাতার বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এর জেরে এক সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ান মাহিন্দা রাজাপাকসে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা আরো বেশি চাপ সৃষ্টি করলে প্রবল বিক্ষোভের মুখে কলম্বোর পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে কার্যত পালিয়ে যান তিনি।