advertisement
আপনি পড়ছেন

ইউক্রেনে যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট বৃদ্ধি করেছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক দেশ ইউক্রেন থেকে খাদ্য শস্য আমদানি করে থাকে। এখন তা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এমন অবস্থায় বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ গম উৎপাদনকারী দেশ ভারত গম রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় দ্বিগুণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী গমের দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে। বেঞ্চমার্ক গমের সূচক শিকাগোতে ৫.৯ শতাংশ বেড়েছে, যা দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমন অবস্থায় জি-৭ নেতারা ভারতের নিন্দা করেছে। বিবিসি।

wheatভারত গম রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় দ্বিগুণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে

সূর্যমুখী তেলের বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক ইউক্রেন। কিন্তু রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় সূর্যমুখী তেলের বিকল্প পণ্যগুলোর দামও বেড়েছে। দেশটি ভুট্টা এবং গমের মতো খাদ্যশস্যের প্রধান উৎপাদক। এগুলোর দামও তীব্রভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, বৈশ্বিক খাদ্যের দাম এপ্রিলে সামান্য হ্রাস পেয়েছে। তবে তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। ক্রমবর্ধমান খাদ্য ও জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি বিশ্বকে মুদ্রাস্ফীতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

গত রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার প্রধান কারণ প্রচণ্ড তাপদাহে ভারতের এবার গমের উৎপাদন কম হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম আকাশচুম্বী। এই বছর বিশ্ব বাজারে গমের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে রুটি থেকে নুডুলস সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে।

তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, ইস্যু করা পণ্যগুলোর রপ্তানির অনুমতি দেবে এবং কোনো দেশ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জন চাহিদা মেটাতে সরবরাহের অনুরোধ করলে তাদের কাছেও রপ্তানি করা হবে। সরকারি কর্মকর্তারাও বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী নয় এবং এটি সংশোধন করা যেতে পারে। তবে জার্মানিতে জি-৭ দেশগুলোর কৃষিমন্ত্রীরা ভারতের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

জার্মান খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী সেম ওজদেমির বলেছেন, যদি সবাই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা বাজার বন্ধ করতে শুরু করে, তবে তা সংকটকে আরও খারাপ করবে। জি-৭ হল বিশ্বের সাতটি বৃহত্তম ‘উন্নত’ অর্থনীতির একটি সংগঠন, যা বিশ্ব বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় আধিপত্য বিস্তার করে। সদস্য দেশগুলো হলো- কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

যদিও ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদক, তবে এর আগে ভারত প্রধান রপ্তানিকারক ছিল না। বেশিরভাগ ফসল অভ্যন্তরীণ বাজারেই বিক্রি হয়। কিন্তু রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের গম রপ্তানি কমে যায়। পাশাপাশি খরা এবং বন্যার কারণে ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে গম আমদানির আশা করেছিল।

রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার আগে ভারত এ বছর রেকর্ড ১০ মিলিয়ন টন গম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জাতিসংঘের (ইউএন) দেওয়া তথ্য অনুসারে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম মার্চ মাসে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।