advertisement
আপনি পড়ছেন

বাল্টিক অঞ্চলের দুই প্রতিবেশী ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপর কালিনিনগ্রাদ ইস্যুতে রাশিয়াকে হুমকি দিয়েছে পোল্যান্ড। দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রমুল্ড শেরমেতিয়েভ বলেছেন, কালিনিনগ্রাদের নাম পাল্টে ফেলতে হবে এবং সেখানে রাশিয়ার সব সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে হবে।

kaliningrad twsdবিমান প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ রাশিয়ার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে কালিনিনগ্রাদে

পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে ক্ষুদ্র ছিটমহল কালিনিনগ্রাদ। বাল্টিক সাগরের তীরবর্তী এ ছিটমহলে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ন কয়েকটি স্থাপনা রয়েছে। রুশ সামরিক বাহিনীর বাল্টিক নৌবহরের সদর দপ্তর ছাড়াও পারমাণবিক মিসাইল স্থাপনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নৌ নির্মাণ জেটি রয়েছে কালিনিনগ্রাদে। এর ঠিক উল্টোদিকে বাল্টিক সাগরের অপর পাড়ে রয়েছে ন্যাটোর সদস্য হতে ইচ্ছুক সুইডেন।

পোল্যান্ডের সাবেক প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রমুল্ড শেরমেতিয়েভ পোলিশ সংবাদমাধ্যম ডো রেজেক্সির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ন্যাটো কোনোভাবেই কালিনিনগ্রাদকে বর্তমান অবস্থায় টিকতে দিতে পারে না। কালিনিনগ্রাদ ন্যাটোর দুই পায়ের মধ্যখানে বারুদ হয়ে থাকবে, যা অবশ্যই কাম্য নয়। সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগদানের পর কালিনিনগ্রাদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পর বাল্টিক সাগরে আধিপত্য করবে কালিনিনগ্রাদ। সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তির পর ন্যাটোকে কালিনিনগ্রাদ বেসামরিকীকরণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। কালিনিনগ্রাদের নাম পাল্টে কোয়েনিগসবার্গ রাখার প্রস্তাব করে সেরমেতিয়েভ বলেন, আমরা কালিনিনগ্রাদের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অপরাধী মিখাইল কালিনিনের নাম ঝেড়ে ফেলুন।

সেরমেতিয়েভের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কালিনিনগ্রাদের গভর্নর আন্তন আলিখানভ। তিনি বলেন, পোল্যান্ডের রাজনীতিকরা রাশিয়া-বিদ্বেষের প্রতিযোগিতায় মেতেছেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রধান জারোস্লাভ ক্রাজচিনস্কি অচিরেই মারা যাবেন। তার অনুপস্থিতিতে দলীয় প্রধান হবার জন্য শেরমেতিয়েভ ও প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ দুদা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা উভয়েই দেখাতে চাইছেন কে রাশিয়ার প্রতি কত বেশি বিদ্বেষ পোষণ করতে পারেন।

আলিখানভ বলেন, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দিচ্ছে বলে তারা কালিনিনগ্রাদকে বেসামরিকীকরণের কথা বলছেন। পোল্যান্ডের রাজনীতিকরা চিন্তা করার ক্ষমতা হারাচ্ছেন। এটা তাদের জন্য সমস্যা হতে পারে। কিন্তু ভূরাজনৈতিক বিচারে কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার জন্য বিরাট শক্তি।

এর আগে রোববার ন্যাটোতে যোগদানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাল্টিক অঞ্চলের দুই দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। স্থানীয় সময় দুপুরে হেলসিংকিতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সলি নিনিস্তো ও প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন জানান, ফিনল্যান্ড সরকার ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করছি ফিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করবে।

ফিনল্যান্ডের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘন্টা পর স্টকহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী মাগদালিনা অ্যান্ডারসন বলেন, সুইডেনের ক্ষমতাসীন দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ন্যাটোতে যোগদানের পর সুইডেনের নিরাপত্তা যেমন জোরদার হবে, তেমনি আমরাও অন্য দেশের নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারব।