advertisement
আপনি পড়ছেন

মারিওপলের আজভস্টাল ইস্পাত কারখানার ভূগর্ভে থাকা আহত ইউক্রেনীয় সৈন্যদের সরিয়ে নিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে প্রাভদা।

azovstal wounded soldiersআজভস্টালের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আহত দুজন ইউক্রেনীয় সৈন্য

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আজভস্টাল মেটালারজিক্যাল প্লান্টে আটকাপড়া ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ফলশ্রুতিতে আহতদের সরিয়ে নিতে আজ সোমবার (১৬ মে) একটি সমঝোতা হয়েছে।

এর আগে সোমবার দুপুরে রাশিয়া-সমর্থিত দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের ভোস্তক ব্যাটালিয়নের প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সান্ডার খোদাকভস্কি জানান, আটকাপড়া সৈন্যদের ১০ সদস্যের একটি দল সকালে সাদা পতাকা হাতে আজভস্টাল কারখানা থেকে বেরিয়ে রুশ সৈন্যদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা ওই কারখানার ভূগর্ভে আটকাপড়া সিংহভাগ সৈন্যের প্রতিনিধিত্ব করছে জানিয়ে রুশ বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

আজভস্টালে আটকাপড়া সৈন্যদের মধ্যে গুরুতর আহতদের সেখান থেকে সরে যেতে দিতে রাশিয়াকে রাজি করাতে তুরস্কের শরণাপন্ন হয়েছিল ইউক্রেন সরকার। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ সেই সমঝোতার কথা বলেছে। তবে তার পেছনে তুরস্কের মধ্যস্থতার কোনো ভূমিকা রয়েছে কিনা, তা জানা যায়নি।

এর আগে ইউক্রেনের ন্যায়পাল লুডমিলা ডেনিসোভা গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, আজভস্টালে আহত প্রায় ৬০০ ইউক্রেনীয় সৈন্য সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে আছে। সেখানে হিটিং সিস্টেম থেকে পানি সংগ্রহ করে চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওষুধ বলতে তেমন কিছু নেই। মেঝের উপর বিছানো পাটাতনে সৈন্যদের শুইয়ে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে অনেকে মারা যাচ্ছে।

ইউক্রেনের একটি সূত্র বলেছে, দেশটির সেনাসদর আগেই আজভস্টালকে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছে। এজন্য সেখানে ২-৩ মাসের প্রয়োজনীয় রসদ মজুত করা হয়েছে। রুশ সৈন্যরা যখন মারিওপল ঘিরে ফেলতে শুরু করে, তখনই আজভ মিলিশিয়াদের স্থানীয় হাইপারমার্কেট ও ওয়্যারহাউজগুলো থেকে খাদ্যপণ্য সরিয়ে নিতে সবুজ সংকেত দেয় সেনাসদর।

আজভস্টালের ভূগর্ভে খাদ্য ও অন্যান্য রসদসামগ্রীর মজুত কোথায়, সেটা কেবল আজভ যোদ্ধারাই জানে। ওই মজুত থেকে নিয়মিত নিজেদের বম্ব শেল্টারে খাদ্য নিয়ে যায় তারা। আজভস্টালে মোট ৩০টি বম্ব শেল্টার আছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ ও অস্ত্রসামগ্রী মজুত করলেও আজভস্টালের এমন পরিস্থিতি ইউক্রেনীয় সৈন্যদের ধারণায় ছিল না। রুশ বাহিনীর ভারী গোলাবর্ষণ এবং থারমোবেরিক বোমা ইত্যাদি ব্যবহারের কারণে এখন ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারের অনেক স্থানেও ইট-সুড়কি ভেঙ্গে সৈন্যদের মাথার ওপর পড়ছে।