advertisement
আপনি পড়ছেন

সম্প্রতি একটি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আফ্রিকান দেশ মালির সামরিক সরকার। গত সপ্তাহে অভ্যুত্থানটি চালানোর চেষ্টা করছিল পশ্চিমা-সমর্থিত অফিসারেরা। গত সোমবার মালির সামরিক সরকার এই তথ্য জানায়। খবর রয়টার্স।

mali army 4অভ্যুত্থান ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে মালি

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পঠিত বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু কমিশনড ও নন-কমিশনড অফিসার অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা এবং পেশাদারিত্বের জন্য এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মালি সরকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ওপর এই জঘন্য আক্রমণের কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলে, এ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য ছিল মালির শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত বা ধ্বংস করা। অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারী সেনাদের গ্রেপ্তারে রাজধানী বামাকো ছেড়ে যাওয়ার রাস্তার চেকপয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সামরিক সূত্র প্রায় ১০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে বলেছে বাাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

assimi goïtaমালির প্রেসিডেন্ট কর্নেল আসিমি গোইতা

মালির সরকারের পক্ষ থেকে এ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পেছনে কোন দেশ রয়েছে, তা প্রকাশ না করা হলেও ফরাসি বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে তারা নানা ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে। মালির সেনাদের সম্পর্কে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে দুই গণমাধ্যম রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল এবং ফ্রান্স ২৪-কে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মালির সরকার ফরাসি সেনাবাহিনীকে মালির আকাশসীমা লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেছে।

দীর্ঘদিন অস্থিতিশীল থাকার পর কর্নেল আসিমি গোইতা দুই দফা মালিতে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম বোবাকা কেইতাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এর নয় মাস পর গত বছরের ২১ মে অন্তর্র্বর্তী বেসামরিক নেতাদের বরখাস্ত করে দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফ্রান্সের সাথে সম্পর্ক খুবই খারাপ অবস্থায় পৌঁছে যায়। ফ্রান্সের সেনাবাহিনী নয় বছর ধরে মালিতে শান্তি রক্ষার জন্য দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু গোইতা দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ফরাসি সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশ মালির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম বোবাকার কেইতাকে ক্ষমতাচ্যুত করার তীব্র নিন্দা জানায়। গোইতার সরকার প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বেসামরিকদের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হয় তারা। গত মাসে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে গোইতার সরকার জানায়, নির্বাচন দিতে আরো দুই বছর লাগবে।