advertisement
আপনি পড়ছেন

ইউক্রেনের পর এবার ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনীতি ও কূটনীতি। পশ্চিমা বিশ্বের সবগুলো দেশ তাদের ন্যাটোতে যোগ দেয়ার পক্ষে। রাশিয়া স্বাভাবিকভাবেই এর চরম বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে ক্ষুব্ধ তুরস্ক বলছে, যেভাবেই হোক তারা ফিনল্যান্ড-সুইডেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়া আটকে দেবে।

erdogan 8তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান বলেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানের ব্যাপারে যে পদক্ষেপই নেওয়া হোক না তার বিরোধিতা করবে তুরস্ক। দেশ দুটি এ ব্যাপারে আঙ্কারাকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আঙ্কারা জানিয়ে দিয়েছে, তুরস্ককে এ বিষয়ে রাজি করানোর জন্য ওই দুই দেশ যেন কোনো প্রতিনিধি না পাঠায়।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এরদোয়ান এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানান। এর আগে গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে ‘সন্ত্রাসীদের গেস্টহাউজ’ বলে মনে করেন তারা।

nato sweden and finlandন্যাটোতে যোগ দিতে চায় সুইডেন ও ফিনল্যান্ড

দেশ দুটিকে সন্ত্রাসবাদের আশ্রয়স্থল ঘোষণা করে এরদোয়ান বলেন, এমনকি দেশটির পার্লামেন্টেও এসব লোকের উপস্থিতি রয়েছে। আঙ্কারা দাবি করে, তুরস্কের কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী পিকেকের সদস্যদের আশ্রয় দিয়েছে দেশ দুটি। অথচ তারা যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত। তুরস্ক তাদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করেছে। তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা চালানোর জন্য দায়ী ফাতহুল্লাহ গুলেনের সমর্থকদেরও আশ্রয় দিয়েছে তারা।

এছাড়া ২০১৯ সালে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগে সুইডেন ও ফিনল্যান্ড আঙ্কারার বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এরদোয়ান বলেন, যেসব দেশ তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ন্যাটোতে তাদের সদস্যপদ আটকে দিতে আঙ্কারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সামরিক জোট ন্যাটো। এর তিন বছর পর ১৯৫২ সালে তাতে যোগ দেয় তুরস্ক। মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই জোটে নতুন্য সদস্য নিতে হলে তাতে সব সদস্য দেশের সম্মতি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তির যে চেষ্টা চালাচ্ছে তাতে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে আঙ্কারার।