advertisement
আপনি পড়ছেন

ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল ইউক্রেন। দেশটিতে রাশিয়ার হামলার ওটাই ছিল উপলক্ষ্য। ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সে হামলা এখনও চলমান। এরইমধ্যে ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। রাশিয়ার হুমকি থাকলেও অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ইউক্রেনের মতো হুট করে নয় বরং পরিকল্পিতভাবে ন্যাটোতে প্রবেশ করতে চাইছে দেশটি। তালিকায় আছে সুইডেনও।

finland pmফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন

মূলত রাশিয়াকে ক্ষিপ্ত করে এই মুহূর্তে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়টি নিয়েই আলোচনা চলছে বেশ। ফিনল্যান্ড যেহেতু রাশিয়ার নিকটতম প্রতিবেশী সেহেতু কীভাবে রাশিয়ার হামলা থেকে জনগণকে রক্ষা করা যাবে, সে প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন ও তার প্রশাসনের সামনে। এক্ষেত্রে রুশ হামলা শুরু হলে তারা ভূ-পৃষ্ঠের হেলসিঙ্কি ছেড়ে ভূগর্ভের হেলসিঙ্কিতে চলে যাবেন। মানে ৭৫ বছর আগে যেসব বাঙ্কার তৈরি হয়েছিল হেলসিঙ্কিতে, সেগুলোই এখন কাজে লাগানো হবে।

জানা গেছে, হেলসিঙ্কির ফ্রানজেনিনকাটু স্ট্রিটে অনেক পুরোনো লোহার একটি ঘর রয়েছে। অপরিচ্ছন্ন দেওয়ালে নানা গ্রাফিটি, বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, ভেতরে সেটা কেমন হতে পারে। সেখানে ঢোকার জন্য রয়েছে সাকুল্যে একটিমাত্র দরজা। ভেতরে ঢুকতেই সামনে পড়ে সিঁড়ি। সেটা দিয়ে নামলে মাটির ২৫ মিটার নিচে পৌঁছে যাওয়া যাবে। তারপর আবার দুটি ইস্পাতের দরজা, যেগুলো এতটাই ভারী যে, দুজন শক্তিশালী মানুষও খুলতে পারবেন না। সেই দরজা পেরুলে শুরু হয় সুড়ঙ্গ। যার অন্য প্রান্তে অপেক্ষা করছে আরেক হেলসিঙ্কি!

finland bunkerফিনল্যান্ডের বাঙ্কার

ইতিহাসে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ফিনল্যান্ড আক্রমণ করেছিল রাশিয়া। ১৯৩৯-৪০ সালে সাড়ে তিন মাস ধরে চলা সেই যুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে ফিনল্যান্ড। বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজধানী হেলসিঙ্কি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মাটির নিচে বাঙ্কার বানানো। ফিনিশ ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরি ২০০ মাইল বিস্তৃত মাটির নিচের এই এলাকাটিতে রয়েছে অন্তত ৫০০ বাঙ্কার।

নির্মাণশৈলী অনুসারে অন্তত ৯ লক্ষ মানুষের স্থান হবে বাঙ্কারগুলোতে। এমনিতে রাজধানী হেলসিঙ্কির জনসংখ্যা সাড়ে ছয় লাখ। ফলে পুরো রাজধানীই আন্ডারগ্রাউন্ডে আশ্রয়ই নিতে পারবে খুব সহজেই। বসবাসের উপযুক্ত তাপমাত্রা বজায় রাখার ব্যবস্থা রয়েছে বাঙ্কারগুলোতে। রয়েছে উপযুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও। এমনকি হকি খেলার জন্য স্টেডিয়াম ও সুইমিং পুলের মতো স্থাপনাও রয়েছে মাটির নিচের এই নিরাপদ শহরে।

ফলে ধারণা করা হচ্ছে ইউক্রেনের মতো অসহায় নয় বরং বেশ প্রস্তুতি নিয়েই ন্যাটোর কড়া নাড়ছে ফিনল্যান্ড।