advertisement
আপনি পড়ছেন

মারিওপোলের অবরুদ্ধ আজভস্টল স্টিল প্ল্যান্টে লুকিয়ে থাকা প্রায় একহাজার সেনা রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের মধ্যে বেশ কিছু সেনাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, বাকিদের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নীরবে পর্যবেক্ষণ করছে কিয়েভ। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

surrender ukreine soilderআজভস্টল থেকে বের হওয়া ইউক্রেনীয় সেনারা

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বলেছেন, এ পর্যন্ত ৯৫৯ জন ইউক্রেনীয় সেনা আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের মধ্যে ৫১ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বাকিদের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক অঞ্চলের ওলেনিভকা শহরের একটি কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বুধবার একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায় মারিওপোলের অবরুদ্ধ আজভস্টল স্টিলওয়ার্কগুলো থেকে ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা আত্মসমর্পণের পরে তাদেরকে রুশ নিয়ন্ত্রিত আরেকটি শহর নোভোয়াজভস্কের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের বলতে শোনা যায়, তাদের স্বাভাবিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না।

ukraine army transferedআত্মসমর্পণ করা সেনাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কারাগারে

এদিকে সেনাদের আত্মসমর্পণ, তাদের আটক বা চিকিৎসার বিষয়ে ইউক্রেন কোনো মন্তব্য করেনি। ওই স্টিল কারখানায় আর কতজন রয়ে গেছে, সে বিষয়েও পরিষ্কার কোনো কিছু জানা যায়নি।

ইউক্রেনের ডেপুটি প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত মঙ্গলবার বলেছিলেন, আজভস্টল থেকে যে সৈন্যদের রাশিয়া নিয়ে যাচ্ছে, তাদেরকে বন্দী বিনিময়ে মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে বুধবার বেশ কিছু রুশ নেতা এসব সৈন্যের বিচার করা উচিত বলে বিবৃতি দেন।

ক্রেমলিন বলছে, পুতিন ব্যক্তিগতভাবে আত্মসমর্পণকারীদের প্রতি মানবিক আচরণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। তবে অন্য রাশিয়ান রাজনীতিবিদরা তাদের বন্দী রাখার এবং এমনকি তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মারিওপোলের যুদ্ধে অংশ নেওয়া চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ বলেন, আজভ রেজিমেন্টের সদস্যদের ফিরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং আইনের মাধ্যমে তাদের শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানাই।

পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়া-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ২০১৪ সালে আজভ রেজিমেন্ট একটি স্বেচ্ছাসেবক মিলিশিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তী সময়ে এ ইউনিটটি ইউক্রেনের জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে সংযুক্ত হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়ান দুমা এই সপ্তাহে এসব সৈন্যের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। সেক্ষেত্রে নতুন রেজ্যুলেশন জারি করে আজভ যোদ্ধাদের বন্দী বিনিময় নিষিদ্ধ করা হতে পারে। পরে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট ইউক্রেনের আজভ রেজিমেন্টকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে মনোনীত করার আবেদনেরও শুনানি করবে। এর ফলে এ সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ২০ বছর পর্যন্ত সাজা দেওয়ার পথ খুলে যাবে।

এদিকে ইউক্রেনের সামরিক মুখপাত্র ওলেক্সান্ডার মোতুজায়নিক একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রাষ্ট্র আমাদের সেনাদের উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমাদের বীরদের জীবন বাঁচানো। জনসাধারণের কাছে যে কোনোও তথ্য সেই প্রক্রিয়াটিকে বিপন্ন করতে পারে। তাই আসুন আমরা অপেক্ষা করি।