advertisement
আপনি পড়ছেন

গাজা নিজেই অবরুদ্ধ বছরের পর বছর। ২০ লাখের বেশি মানুষ সেখানে এক ধরনের বন্দী জীবনই কাটিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অনেকের কাছে যেনো শান্তির নীড়। এমন একটি জায়গায় আশ্রয় খুঁজে নিয়েছেন ৪০০ নারীসহ ২০০০ ইউক্রেনীয় নাগরিক। খবর লা মন্ডে।

ukrainian viktoria and her palestinian husband ibrahimস্বামী ইব্রাহিমের সাথে ইউক্রেনীয় নারী ভিক্টোরিয়া

লা মন্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক যুদ্ধ তো বটেই, এর আগেও গাজায় ঠাঁই খুঁজে নিয়েছেন আরো অনেকে। বর্তমানে গাজায় চার শতাধিক ইউক্রেনীয় নারী তাদের সন্তানদের সাথে বসবাস করছেন। সব মিলিয়ে গাজায় এখন ইউক্রেনীয় নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ২,০০০ হবে। অধিকৃত পশ্চিম তীরেও বেশ কয়েকজন রয়েছে বলে জানা গেছে।

কিভাবে ইউক্রেনের লোকেরা এসে গাজায় থিতু হয়, তেমনই একটি ঘটনার বর্ণনা করেছে ফরাসি পত্রিকা লা মন্ডে। সেখানে বলা হয়, সম্প্রতি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনের নাগরিক ভিক্টোরিয়া সাইদেম স্বামীর সাথে গাজায় যেতে উৎসাহী হয়ে উঠেন। গাজা পরিস্থিতি তার অজানা নয়। তারপরও তিনি বলেন, আমি অন্য কোনো বিকল্প চাই না। আমার স্বামী গাজার বাসিন্দা, আমি সেখানেই যেতে চাই।

ইউক্রেনে পড়াশোনার সময় ২০২০ সালে ভিক্টোরিয়া সাইদেমের বিয়ে হয় ইব্রাহিম নামের গাজাবাসী এক যুবকের সাথে। তারা সেখানে ডাক্তারি পড়ছিলেন। জার্মানিতে তাদের বন্ধু ছিল। ফলে খুব সহজেই জার্মানিতে গিয়ে নিজেদের নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ ছিল তাদের সামনে। তা না করে তারা বিশেষ করে ভিক্টোরিয়া গাজাকেই বেছে নেন।

কিন্তু ভিক্টোরিয়া ও ইব্রাহিমের জন্য গাজায় পৌঁছা সহজ ছিল না। ইউক্রেনের নাগরিক হওয়ার কারণে ভিক্টোরিয়াকে পথে তেমন ঝক্কি পোহাতে না হলেও ইব্রাহিমকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বিভিন্ন চেকপোস্টে তাকে আরব ও আফ্রিকান অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত সারিতে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছিল।

ভিক্টোরিয়া বলছেন, তিনি মিশরীয় পুলিশ সম্পর্কে চিন্তিত ছিলেন। তাদের ঘুষ, অপমানজনক আচরণ এবং নিজের সাথে থাকা মূল্যবান জিনিসের জন্য ভয় পাচ্ছিলেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি তরুণ এই দম্পতি রাফাহ সীমান্তে পৌঁছান। সেখানে মিশরীয় শুল্ক কর্মকর্তারা নিশ্চিত হতে চান, ভিক্টোরিয়া স্বেচ্ছায় ইব্রাহিমের সাথে এসেছে কি না। যখন তারা দেখতে পায় ভিক্টোরিয়া ইব্রাহিমের সাথে খুশিমনেই অবস্থান করছে, তখন তারা আর ঝামেলা করেনি।

ভিক্টোরিয়া এখন তার স্বামীর সাথে গাজা শহরের কাছে আল-বুরেজ শরণার্থী শিবিরে বাস করছেন। সেখানে ইব্রাহিমের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও রয়েছেন।