advertisement
আপনি পড়ছেন

‘জরুরি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার’ আওতায় ৪১টি ‘অপরিহার্য নয়, এমন বিলাসবহুল পণ্যের’ আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পাকিস্তান সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার ফেডারেল মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত নেয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব। খবর ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

ban on luxury items importপাকিস্তানে বিলাসী পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে

গত কয়েক মাস ধরেই পাকিস্তানের অর্থনীতি ক্রমেই নিম্নমুখী। এরমধ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে দেশটিতে। কিন্তু তাতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং রেকর্ড গড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দরপতনের মুখে পড়েছে দেশটির মুদ্রা। গতকাল প্রতি ডলার কিনতে ব্যয় হয়েছে ২০০ রুপি।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বেশকিছু অপরিহার্য নয় এমন বিলাসী পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। আমদানি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য পণ্যগুলো হচ্ছে গাড়ি, মোবাইল, ব্যক্তিগত অস্ত্র ও গোলাবারুদ, বিলাসবহুল ম্যাট্রেস ও স্লিপিংব্যাগ, বিলাসী চামড়াজাত পোশাক ইত্যাদি। ফেডারেল মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, দুই মাস পর এ নিষেধাজ্ঞা আবার পর্যালোচনা করা হতে পারে।

mariam aorongjebপাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব

এই পণ্যগুলো সাধারণ মানুষ তেমন ব্যবহার করে না উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এসব পণ্য আমদানি বন্ধ হলে ৬০০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এক টুইটে লেখেন, বিলাসী জিনিসপত্র আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা একসাথে সমস্ত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে সক্ষম হবো।

ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ কর্মকর্তার মতে, আমদানি নিষেধাজ্ঞার কারণে মাসিক আমদানি বিল ২৮০ মিলিয়ন থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার কম হবে। এটি মাসিক আমদানি বিলের প্রায় ৫ শতাংশ।

পাকিস্তানের চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট খালিদ তাওয়াব সরকারের এ পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, সরকারের এ বিচক্ষণ পদক্ষেপের মাধ্যমে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করার ক্ষেত্রে আমরা অতিপ্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে পারব বলে আশা করছি।