advertisement
আপনি পড়ছেন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের সিনিয়র নেত্রী ও সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী শিরিন মাজারির গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। পরে গতকাল শনিবার গভীর রাতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) তাকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক তাকে রাতেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রোববার ভোরে তিনি বাড়ি পৌঁছান। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

shireen mazariমুক্তির পর মেয়ের সাথে শিরিন মাজারি

শনিবার রাতে আইএইচসি প্রধান বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহ মাজারির গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের শুনানি করেন এবং ফেডারেল সরকারকে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আদালত ড. মাজারিকে সসম্মানে তার বাড়িতে পৌঁছে দিতে আইজি ইসলামাবাদকে নির্দেশ দেন এবং তার বাসভবনে নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন। আদালত পিটিআই নেতার মোবাইল ফোন ও অন্যান্য জিনিসপত্র ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

যেভাবে গ্রেপ্তার: গতকাল শনিবার দুপুরে একটি জমির অবৈধ হস্তান্তর সংক্রান্ত মামলায় রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে পাঞ্জাবের দুর্নীতি দমন বিভাগ ড. মাজারিকে গ্রেপ্তার করে। তার মেয়ে আইনজীবী ইমান মাজারি তাকে আটকের খবর নিশ্চিত করে এক টুইটে লেখেন, পুরুষ পুলিশ সদস্যরা আমার মাকে মারধর করে তুলে নিয়ে গেছে। তবে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েক নারী পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি তাদের বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে তারা একপ্রকার জোর করেই তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

এদিকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পরই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হামজা শাহবাজ শিরিন মাজারিকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একজন নারী হিসাবে শিরিন মাজারি সম্মান লাভের যোগ্য।

হামজা শাহবাজ বলেন, কোনো নারীকে গ্রেপ্তার করা আমাদের নৈতিক মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ড. মাজারিকে গ্রেপ্তারের জন্য দুর্নীতি দমন কর্মীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া উচিত।

হামজা বলেন, তদন্তের ফলে গ্রেপ্তার অনিবার্য হলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে ড. মাজারিকে পুলিশ যেভাবে গ্রেপ্তার করেছে, তার সাথে তিনি একমত নন। পিএমএল-এন একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে নারীদের সম্মান দেওয়ায় বিশ্বাস করে।

এদিকে এ ঘটনায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান একটি টুইটে লেখেন, আমাদের দলের সিনিয়র নেতা শিরিন মাজারিকে এই ফ্যাসিবাদী শাসনের দ্বারা তার বাড়ির বাইরে থেকে সহিংসভাবে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিরিন শক্তিশালী ও নির্ভীক একজন মানুষ।

ইসলামাবাদ পুলিশ অবশ্য গ্রেপ্তারের সময় ভুল আচরণের দাবি অস্বীকার করে বলেছে, দুর্নীতি দমন বিভাগের অনুরোধে আইন অনুযায়ী নারী পুলিশ কর্মকর্তারা ড. শিরীন মাজারিকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। এক টুইটে তারা জানায়, পুরুষ সদস্যদের দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের খবর ভিত্তিহীন।

পিটিআইয়ের সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নথিভুক্ত করা প্রথম এফআইআরে বলা হয়েছে, রেকর্ড যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা গেছে, শিরিন মেহরুন নিসা মাজারি রাজস্ব কর্মকর্তাদের সাথে প্রতারণামূলকভাবে এবং জাল মিউটেশনের মাধ্যমে মেসার্স প্রোগ্রেসিভ ফার্মস লিমিটেডের নামে ৮০০ কানাল জমি হস্তান্তর করেছেন। গত ১১ মার্চ শিরিন মাজারির বিরুদ্ধে ওই অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছিল।