advertisement
আপনি পড়ছেন

রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলে কথা! নিজের মেয়েকে একটা চাকরি দিতেই পারেন। এমনটা হলে সেটাকে খুব স্বাভাবিক ঘটনা বলেই মানতে হবে। কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা হাইকোর্ট হাঁটল অন্য পথে। মন্ত্রীর মেয়েকে চাকরি থেকে বরখাস্ত তো করলোই, উপরন্তু ৪১ মাস চাকরি করে যে বেতন পেয়েছিলেন, সেগুলোও মাস দেড়েকের মধ্যে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারক। খবর ইন্ডিয়ানএক্সপ্রেস, ইন্ডিয়ান টুডে।

ankita adhikary and kolkata high courtঅঙ্কিতা অধিকারী ও কলকাতা হাইকোর্ট

জানা গেছে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) মাধ্যমে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী। প্রভাব খাটিয়ে মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ করেছিলেন নিয়োগবঞ্চিত আরেক প্রার্থী ববিতা সরকার।

অভিযোগে ববিতা বলেছেন, নিয়োগের মেধাতালিকায় ২০ নম্বরে নাম ছিল তার। অন্যদিকে এই ২০ জনের মধ্যে অঙ্কিতার নাম ছিল না। অথচ ২০১৭ সালের নভেম্বর দ্বিতীয় যে তালিকা করা হয় তাতে একেবারে প্রথম স্থানে চলে যান অঙ্কিতা। আর এ ধাক্কায় ২০ নম্বর স্থানে থাকা ববিতা চলে যান তালিকার বাইরে।

paresh adhikaryপশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী

এর ফলে অঙ্কিতার চেয়ে ১৬ নম্বর বেশি থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন তিনি। অন্যদিকে ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট নিয়োগের যে সুপারিশ করা হয়, তাতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে গত ৪১ মাস ধরে মেখলিগঞ্জ ইন্দিরা গার্লস হাইস্কুলে চাকরি করছিলেন অঙ্কিতা।

ববিতা তার অভিযোগে আরো জানিয়েছিলেন, ৬১ নম্বর পেয়ে ‘টপার’ হয়েছিলেন অঙ্কিতা। সেখানে দ্বিতীয় মেধাতালিকায় ২১ নম্বরে থাকা ববিতার নম্বর ছিল ৭৭। এছাড়া অঙ্কিতা নিয়োগের নিয়মানুযায়ী পার্সোনালিটি টেস্টেও বসেননি।

ববিতার এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে দীর্ঘ শুনানির পর অঙ্কিতাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে কলকাতা হাইকোর্ট। রায়ে আরো বলা হয়, অঙ্কিতা এখন থেকে আর নিজেকে শিক্ষক বলেও পরিচয় দিতে পারবেন না এবং কোচবিহারের ওই স্কুলে আর ঢুকতে পারবেন না।

গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যে রায় দিয়েছেন, তাতে তিনি এ-ও বলেন, অঙ্কিতা অধিকারী শিক্ষিকা হিসেবে ৪১ মাস যে বেতন পেয়েছেন, তা দুই কিস্তিতে ফেরত দিতে হবে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তি ৭ জুন, দ্বিতীয় কিস্তি ৭ জুলাই। এর মধ্যেই হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পুরো বেতন ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।