advertisement
আপনি পড়ছেন

পাকিস্তানে নজিরবিহীন দমনপীড়নের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের লং মার্চ। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ওয়ালি ইন্টারচেঞ্জ এলাকা থেকে পিটিআই নেতাকর্মীদের নিয়ে লং মার্চ শুরু করেছেন ইমরান খান। দলের অন্য নেতারা নিজ নিজ শহর থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে ইসলামাবাদের কাছে পৌঁছার পর গ্রেপ্তার করা হতে পারে ইমরান খানকে।

imran khan long march twsdখাইবার পাখতুনখোয়া থেকে লং মার্চ শুরু করেছেন ইমরান খান

লং মার্চ সামনে রেখে আগে থেকে ইসলামাবাদে প্রবেশের সবকটি সড়ক কনটেইনার দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। শ্রীনগর হাইওয়ে, পিন্ডি রোড, জিটি রোড, কাশ্মীর-ঝিলাম রোডের মতো যেসব মহাসড়ক পাকিস্তানের প্রাদেশিক শহরগুলোর সঙ্গে রাজধানীকে সংযুক্ত করেছে, সেগুলোতেও কনটেইনার ও কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসিয়েছে পুলিশ।

পিটিআই নেতাকর্মীরা লং মার্চ কর্মসূচির নাম দিয়েছেন হাকীকি আজাদী মার্চ। লং মার্চ নিয়ে ইসলামাবাদের ডি চকে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে ইমরান খান বলেছেন, কোনো ব্যারিকেড আজাদী মার্চকে ঠেকাতে পারবে না।

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন সরকারকে ‘চোরের দল’ অভিহিত করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের ইতিহাসে এত দুর্নীতিবাজ কেউ ক্ষমতায় আসেনি। তারা মানুষকে ভয় পায় বলেই রাস্তায় কনটেইনার বসিয়েছে। পিটিআই সরকার কাউকে কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেয়নি কারণ পিটিআই জনগণকে ভয় পেত না।

লং মার্চকে ঘিরে আজ বুধবার সকাল থেকে নানারকম গুঞ্জন শোনা যায়। ইমরান খানের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হয়েছে বলে দুপুর নাগাদ সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ইমরান খান বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, লং মার্চে অংশগ্রহণে জনগণকে নিরুৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

এদিকে লং মার্চ যাতে ইসলামাবাদ পৌঁছতে পারে সেজন্য বিকল্প রুট নির্দিষ্ট করতে ইসলামাবাদের চিফ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট। লং মার্চে ব্যারিকেড ও বাধা অপসারণের আবেদন জানিয়ে ইসলামাবাদ বার এসোসিয়েশন সভাপতির এক পিটিশনের শুনানি করতে গিয়ে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন। একইসঙ্গে আদালত পিটিআইকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নিশ্চিত করতে বলেন।

লং মার্চ নিয়ে সরকার ও পিটিআইর মধ্যে যোগাযোগে ঘাটতি আছে মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে কথা বলে সরকারের পরিকল্পনা জানার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ ইমরান খানকে লং মার্চ করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। লং মার্চ শেষে ইসলামাবাদের শ্রীনগর হাইওয়েতে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পিটিআই’র একটি আবেদন কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল আশতার আউসাফ সুপ্রিম কোর্টকে বলেছেন, ইমরান খানের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি থাকায় সরকার শ্রীনগর হাইওয়েতে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। এ পর্যায়ে আদালত পাল্টা প্রশ্ন করেন, কেবলমাত্র শ্রীনগর হাইওয়েতে নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি আছে কিনা? অ্যাটর্নি জেনারেল তখন ‘আইন শৃঙ্খলার বিষয়টি প্রাদেশিক সরকারের এখতিয়ারাধীন’ বলে জানালে আদালত জানতে চান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি কেবল পোস্ট অফিস হিসেবে কাজ করছে?

বিষয়টি নিয়ে শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন, কীভাবে রাস্তাঘাট বন্ধ না করে সমাবেশ আয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে।

ইমরান খান লং মার্চ শেষে ইসলামাবাদে সমাবেশ এবং নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, লাহোর ও খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে রওনা হওয়া লং মার্চগুলো বিকাল পর্যন্ত প্রায় ডজনখানেক ব্যারিকেড অপসারণ করে ক্রমশ ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ গতিতে এগোতে থাকলে আগামীকাল সকাল বা দুপুর নাগাদ ইসলামাবাদ পৌঁছবে লং মার্চ।

ধারণা করা হচ্ছে, লং মার্চকে ঘিরে পাকিস্তানের আদালত থেকে সরকারের সঙ্গে ইমরান খানের সমঝোতার কোনো উপায় বেরিয়ে আসবে। অন্যথায় বিপূল সংখ্যক মানুষসহ ইমরান খানের অবস্থান কর্মসূচি এরইমধ্যে জন-আস্থার তলানিতে থাকা পাকিস্তান সরকারকে ভীষণভাবে বেকায়দায় ফেলবে। সেক্ষেত্রে ইমরান খানকে ইসলামাবাদে পৌঁছার আগে বা পরে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, যদিও তাতে খানের পক্ষে জনস্রোত ঠেকানো সম্ভব হবে না।