advertisement
আপনি পড়ছেন

ইউরোপীয় গবেষকরা চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলোজিকে (এনইউডিটি) সহযোগিতা দিচ্ছেন বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ডাচ গণমাধ্যম ফলো দ্য মানি এবং জার্মানির কারেক্টিভের নেতৃত্বে ডয়চে ভেলেসহ ১০টি ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের যৌথ অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

xii and china officialsইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি চীনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছে?

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে- অনুসন্ধানে প্রায় তিন হাজার গবেষণা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। যেগুলো ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে এনইউডিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা লিখেছেন। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স থেকে থেকে শুরু করে কোয়ান্টামভিত্তিক নানা গবেষণা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বদলে দিতে পারে আগামী দিনের পৃথিবীকে।

বিশ্লেষকদের মতে বৈশ্বিক সুপারপাওয়ার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চীন তার গবেষকদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাঠাচ্ছে। আর সেই প্রমাণও উঠে এসেছে যৌথ অনুসন্ধানে।

জার্মানিতে পিএইচডি করেছেন এনইউডিটিতে পড়ুয়া চীনের এক শিক্ষার্থী। তবে এই শিক্ষার্থীর পিএইচডি তত্ত্বাবধান করা জার্মান অধ্যাপক জানিয়েছেন, তিনি ওই শিক্ষার্থীর সামরিক সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে তেমন ভাবেননি।

কিছুটা আফসোস করে তিনি বলেন, তার শিক্ষার্থী যথেষ্ট বন্ধুবৎসল এবং অসাধারণ ছিল। নিজ প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার বিজ্ঞানে এমন শিক্ষার্থী পেয়ে তিনি গর্বিত। তবে বৃত্তি শেষে সেই ছাত্র চীনে ফিরে যাওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন।

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে- চীনের কমিউনিস্ট দলের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের অধীনে পরিচালিত হয় এনইউডিটি। দেশটির সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে গবেষণা করা আলেক্স জোসকে জানান, হাইপারসনিক ও পরমাণু অস্ত্র থেকে শুরু করে কোয়ান্টাম সুপার কম্পিউটারসহ চীনের সামরিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই প্রতিষ্ঠান।

তবে শুধু জার্মানি নয় গোটা ইউরোপের গবেষকদের সঙ্গেই এনইউডিটি এর নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, এমন তথ্য উঠে আসে যৌথ অনুসন্ধানে।

জোসকে বলেন, ‘প্রকাশিত প্রতি দুইটি গবেষণার একটিতে দেখবেন এর পেছনে চীনের কোনো সামরিক কর্মকর্তা ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ বা পড়াশোনা করেছেন এবং সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন যার প্রেক্ষিতে এইসব গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে।’

ডয়চে ভেলে ও তার সহযোগীদের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের গবেষণা চীনের সামরিক বাহিনীর হাতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।