advertisement
আপনি পড়ছেন

পূর্ব আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে ভূমিকম্পের পর পানীয় জল ও খাদ্য সংকটের কারণে রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফত জামান বলেছেন, খাদ্য ও সুপেয় জলের তীব্র অভাবে ভুগছে মানুষ। অবিলম্বে তাদের জন্য খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা দরকার।

afghanistan earthquake twsd ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত এলাকায় রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন আফগান কর্মকর্তারা

আফগান মুখপাত্র বলেন, বিধ্বস্ত এলাকার মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ওষুধের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কিন্তু ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলোকে নিয়ে বাড়তি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছে জরুরি খাদ্য ও ওষুধ দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানাচ্ছি। যথাযথ বাসস্থান ও আশ্রয় না থাকায় স্থানীয় অধিবাসীরা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে।

এর আগে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কর্মসূচি সমন্বয় দপ্তর ইউএনওচা ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত এলাকায় কলেরার প্রকোপের আশঙ্কা প্রকাশ করে।

বুধবার ভোরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাকতিকা প্রদেশের চারটি জেলায় কমপক্ষে ১ হাজার ১৫০ জন নিহত ও ২ হাজার মানুষ আহত হয়। প্রায় ১০ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয় ভূমিকম্পে।

ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। আফগান সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যাংকিং খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সমমনা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ভূমিকম্পের আগে থেকেই মানবিক সংকটে নিপতিত ছিল দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মধ্যবর্তী দেশটি।

তালেবান সরকারের কর্মকর্তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পশ্চিমা দেশগুলোতে জব্দকৃত আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল ও সম্পদ ছাড়করণের আহ্বান জানিয়েছেন।

গত আগস্টে তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার দেশে গচ্ছিত আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলার জব্দ করতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। নিউইয়র্কে নাইন-ইলেভেন হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ওই অর্থ ব্যয় হবে বলে বাইডেন ঘোষণা দেন।

গত সপ্তাহে আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের অব্যবহিত পরে আফগানিস্তানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড় করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানায় চীন।

জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিথি ঝাং জুন নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে আফগানিস্তানের সম্পদ ফিরিয়ে দিতে জো বাইডেন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জব্দকৃত প্রতিটি ডলার এই মুহূর্তে আফগান জনগণের খুব দরকার। এ অবস্থায় আফগানিস্তানের বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ রাখার কোনো যুক্তি নেই।

তিনি বলেন, কোনোরকম শর্ত ছাড়াই আফগানিস্তানের সম্পদ যথাশীঘ্র সম্ভব আফগানদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও সাহায্য সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা। আফগানরা যখন সম্পদের প্রকট অভাব বোধ করছে সে মুহূর্তে এসব তহবিল আটকে রাখা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনয়িং শুক্রবার এক টুইটে লিখেছেন- ‘দেখলাম মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের পাশে আছে। তাহলে আফগানদের ৭০০ কোটি ডলার ফেরত দিচ্ছেন না কেন?’