advertisement
আপনি পড়ছেন

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সদস্যপদ আবেদনে সমর্থন দিতে রাজি হয়েছে তুরস্ক। গতকাল মঙ্গলবার মাদ্রিদে ন্যাটো সম্মেলনে বৈঠকের পর তিনটি দেশ এ ব্যাপারে একটি যৌথ স্মারকে সই করে। খবর বিবিসি।

turkey sweden and finland signed a trilateral memorandumন্যাটোর সেক্রেটারি জেনস স্টলটেনবার্গ ও এরদোয়ানের করমর্দন

তুর্কিয়ের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গ, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিসটো ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন দুই দেশের সন্ত্রাসবাদের সাথে সংযুক্ত থাকা এবং এ ব্যাপারে আঙ্কারার উদ্বেগ নিয়ে বৈঠকে বসেন।

বৈঠকের পর তিন রাষ্ট্রপ্রধান ও স্টলটেনবার্গের উপস্থিতিতে চুক্তিতে সই করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু, ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেক্কা হাভিস্তো এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান লিন্ডে।

signing of agreementশীর্ষনেতাদের উপস্থিতিতে তিন দেশের মধ্যে চুক্তি সই

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যাটো প্রধান বলেন, নর্ডিক দেশগুলির সামরিক জোটে যোগদানের পথ প্রশস্ত করতে তিন দেশ যে চুক্তিতে পৌঁছেছে তাতে তিনি সন্তুষ্ট।

তিনি আরো বলেন, আলোচনার সময় তিনটি দেশই যে গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে তাকে আমি দৃঢ়ভাবে স্বাগত জানাই। তিন দেশের মধ্যে যে চুক্তি সই হয়েছে, তা ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের জন্য ভালো। একইসাথে এটি ন্যাটো ও ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য ভালো।

চুক্তিটিকে সুইডিশ জনগণের জন্য মূল্যবান উল্লেখ করে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন বলেন, সুইডেন ও সুইডিশ জনগণের নিরাপত্তার জন্য আমরা এই চুক্তিতে পৌঁছেছি।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিসটো টুইটারে বলেছেন, আমাদের যৌথ স্মারকলিপি ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও তুরস্কের একে অপরের নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিকে জোরদার করে। আমরা ন্যাটো মিত্র হয়ে উঠলে এই প্রতিশ্রুতি আরও শক্তিশালী হবে।

ন্যাটোতে যোগদানের ইস্যু নিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। হামলার এক পর্যায়ে ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আশা ত্যাগ করলেও নতুন করে সদস্য হওয়ার আগ্রহ দেখায় রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। তবে সন্ত্রাসবাদে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ এনে দেশ দুটির ন্যাটো সদস্য হওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানায় তুরস্ক।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছিলেন, পুরো স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চল সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর গেস্ট হাউস। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তারা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার না করা পর্যন্ত আমরা কোনোভাবেই এ প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবো না। বাগাড়ম্বর বাদ দিয়ে আগে তাদেরকে এ ব্যাপারে পরিষ্কার উদ্যোগ নিতে হবে।

বিভিন্ন সময় বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইউরোপীয় নেতা এরদোয়ানের সাথে কথা বলেন। অবশেষে গতকাল এ বিষয়ে তিন দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য সংখ্যা ৩০। নিয়ম অনুযায়ী, জোটে নতুন সদস্য যুক্ত করতে হলে সব সদস্যদেশের সমর্থন প্রয়োজন হয়। এ নিয়মের জেরেই জোটের দীর্ঘদিনের সদস্য তুরস্ক নতুন দুই সদস্যপ্রার্থীর ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিল।

এদিকে তুরস্কের বাধা মোটামুটি কাটলেও দেশ দুটি সামনে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে রাশিয়া। দেশটি হুমকি দিয়েছে, এ দুই দেশের ন্যাটোতে যোগদানের মাধ্যমে ন্যাটো রাশিয়ার কাছাকাছি অঞ্চলে অস্ত্র মোতায়েনের সুযোগ পাবে। এমনটি হলে বিষয়টি কারো জন্যই ভালো হবে না।