advertisement
আপনি পড়ছেন

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও তালেবান শাসন প্রত্যাবর্তনের পর থেকে পুনরায় শুরু হওয়া সন্ত্রাসী হুমকির সঙ্গে লড়াই করছে পশ্চিমা বিশ্ব। ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিশ্লেষক কাইল অরটন বলেছেন, আফগানিস্তান বর্তমানে একটি ধ্বংসাত্মক ভূমি। দেশটি রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জে তৈরি করছে।

map afghanistan kunar khostআফগানিস্তানের ম্যাপ

একটি ব্লগে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং ইসলামি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনায় এ কথা বলেন ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিশ্লেষক অরটন।

ন্যাটে বাহিনী ১০ মাস হলো আফগানিস্তান ছেড়েছে। দেশটিতে বিশৃঙ্খলা চলছে। অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদের চ্যালেঞ্জ করছে।

আফগানিস্তানের সংকট আফগানিস্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শরণার্থী ঢেউ চলছে, স্পষ্ট সন্ত্রাসবাদের হুমকি বিরাজ করছে। তালেবানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হলো ইসলামিক স্টেটের খোরাসান প্রদেশ- আইএসকেপি।

অরটন বলেন, “গণমাধ্যম হয়তো অনেকাংশে এগিয়ে গেছে, কিন্তু আফগানিস্তানের পরিস্থিতিতে পশ্চিমাদের আরও মনোযোগের প্রয়োজন হবে। এটি অদূর ভবিষ্যতের জন্য আমাদের নিজস্ব স্বার্থে প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, আইএসকেপি তালেবান-কায়েদা বাহিনীকে ভয়ানকভাবে ঘৃণা করে, এটি আরও চাপের বিষয়। ন্যাটো যখন আফগানিস্তানে ছিল এবং তালেবান-কায়েদা গ্রুপকে অনেক চাপের মধ্যে ফেলেছিল, তখন আইএসকেপি বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী অভিযান চালিয়েছিল।

আফগানিস্তানে তালেবান দখলের সময় হাজারো আইএসকেপি সদস্য মুক্ত হয়ে যায়। আফগানিস্তানে এর প্রভাবও দ্রুত দেখা যায়। আশ্চর্যজনকভাবে তালেবান আইএসকেপির লাগাম টেনে ধরতে পারেনি।
সুতরাং, যদি ২০২১ সালের আগস্ট থেকে আফগানিস্তানের উন্নয়নের বিস্তৃত রূপরেখা দেখা হয়, সেক্ষেত্রে পশ্চিমা গোয়েন্দারা তৃণমূল পর্যন্ত কী ধরনের দৃশ্যমান নজরদারি রাখছে- সেই প্রশ্ন করেছেন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রাক্তন অপারেশন অফিসার রিউয়েল মার্ক গেরেচট।

তিনি বলেন, আমেরিকানরা যখন বিদেশে অপ্রত্যাশিত আঘাতের শিকার হয়, তখন আমেরিকান গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের অপ্রতুলতা নিয়ে আলোচনা অনিবার্যভাবে শুরু হয়। এটি সিআইএ’র গভীর কাঠামোগত সমস্যা থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য নয়। এক্ষেত্রে বিশ্লেষণ, রাজনীতি এবং অনুশীলন এই তিনটি সমস্যা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, বিশ্লেষণমূলক সমস্যা, যা কিছুটা রাজনৈতিকও। গেরেচট ব্যাখ্যা করেছেন, “বিশ্লেষণ ও অপারেশনের ক্ষেত্রে ল্যাংলির সমস্যা সমাধানের একটি উপায় রয়েছে; তা হলো- প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষপাতদুষ্টতা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পুনরায় ঠিক করা।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক সমস্যা হলো গোয়েন্দা সংস্থার চরম ঝুঁকি-বিমুখতা। গেরেচট বলেছেন, “গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনে করে আমেরিকান বেসামরিক কয়েকশ বা হাজারো নাগরিক মারা যাওয়ার চেয়ে তাদের জীবন হারানো অনেক ভালো।

তৃতীয় সমস্যা হলো- তাদের শত্রু আমাদের নাও হতে পারে। সিআইএ মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিষেবাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সম্পর্কের উপর খুব নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।

গেরেচট বলেন, সামগ্রিকভাবে আফগানিস্তানের মাটিতে সৈন্য এবং তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত একটি উড়ন্ত পাখি। যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তার কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র গোয়েন্দা নেটওয়ার্কগুলোর পতন।