advertisement
আপনি পড়ছেন

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়া সমর্থিত দুই প্রজাতন্ত্র দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বীকৃতি দেবে সিরিয়া। বুধবার রাতে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মিকদাদ এ কথা জানিয়েছেন। সিরিয়ার এ সিদ্ধান্তের পর দেশটির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খবর এপি।

syria dpr tlsd চলতি মাসে আরও আগের দিকে সিরিয়া সফর করে দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সব ক্ষেত্রে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আগ্রহ ও আকাক্সক্ষা বিবেচনায় রেখে সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্র লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক ও দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিরিয়া সরকার এ দুটি প্রজাতন্ত্রে দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা ও পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের রূপরেখা নিয়ে সিরিয়া সরকার প্রতিষ্ঠিত আইন ও নীতি অনুযায়ী যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।

এর আগে চলতি মাসের মাঝামাঝি সিরিয়া সফর করে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক প্রজাতন্ত্রের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিরা দামেস্কে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সফরকালে দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য দিমিত্রি সাবলিনকে সঙ্গে নিয়ে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মিকদাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

রুশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সিরিয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশ দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ভেনিজুয়েলা ও উত্তর কোরিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে। সিরিয়ার আগে রাশিয়া ছাড়া আরও কোনো দেশ এ দুটি প্রজাতন্ত্রকে স্বীকৃতি দেয়নি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক প্রজাতন্ত্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এ দুটি অঞ্চলের রুশ ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীকে ইউক্রেনের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে বলে রুশ কর্মকর্তারা দাবি করেন।

লুহানস্কের রাশিয়া-সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান লিওনিদ পাশেচনিক দাবি করেছেন, রুশ সেনাবাহিনী ও লুহানস্ক পিপলস মিলিশিয়াদের নিয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী লুহানস্কের ৯৮ শতাংশের বেশি ভূখণ্ড ইউক্রেনীয় বাহিনীর দখলমুক্ত করতে সমর্থ হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু বলেছেন, লুহানস্কের প্রায় সবটুকুই রুশ সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে দোনেৎস্ক প্রদেশের প্রায় অর্ধেক রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা ও সামরিক বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার অন্যতম ঘনিষ্ট মিত্র সিরিয়া। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিরিয়ার সরকারের পক্ষে দেশটির সংঘাতে অংশ নেয়। রাশিয়ার অংশগ্রহণের ফলে বিদেশি-সমর্থনপুষ্ট যোদ্ধাদের দেশের বেশিরভাগ এলাকার থেকে তাড়াতে সমর্থ হয় বাশার আল-আসাদের সরকার।

পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ২০১৪ সাল থেকে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হতে যুদ্ধ করছে। চার মাস আগে রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে নামার পর থেকে ইউক্রেনের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত কয়লাখনি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন অঞ্চল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের স্বীকৃতির বিষয়ে সিরিয়ার সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দামেস্কের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও বলেছেন।