advertisement
আপনি পড়ছেন

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় লিসিচানস্ক শহরে সেদেশের বৃহত্তম তেল শোধনাগারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রুশ বাহিনী। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত শোধনাগারটি ইউক্রেনীয় বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার ও ট্রান্সশিপমেন্ট স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা। তারা লিসিচানস্কের নিকটবর্তী প্রিভোলিয়ে শহরটিও নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।oil twsdলিসিচানস্কে ইউক্রেনের বৃহত্তম তেল শোধনাগার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রুশ বাহিনী

লিসিচানস্ক তেল শোধনাগারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে গত দুদিন ধরে যুদ্ধ চলছিল। সেখানে মোতায়েন ইউক্রেনীয় বাহিনীর ১০৮তম ব্যাটালিয়ন রুশ আক্রমণ প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। গতকাল স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ রাশিয়া ও লুহানস্কের যৌথ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়।

রুশ বাহিনীর সঙ্গে থাকা প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, লিসিচানস্ক শোধনাগারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। সেখানে থাকা ১০৮ ব্যাটালিয়নের ৩৫০ জন সৈন্যের মধ্যে মাত্র ৩০ জন জীবিত রয়েছে।

জানা গেছে, তেল শোধনাগারের নিয়ন্ত্রণ পাবার পর রুশ বাহিনী পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী লিসিচানস্ক ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন ইউক্রেনীয় বাহিনীর চারপাশে পূর্ণ অবরোধ গড়তে কাজ করছে। তারা এরইমধ্যে লিসিচানস্কের কাছাকাছি অবস্থিত প্রিভোলিয়ে শহর দখল করে নিয়েছে। সেখান থেকে চার কিলোমিটার দূরের জোলোত্রেভকা পর্যন্ত বেষ্টনী গড়ে তুলতে পারলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কয়েক হাজার সৈন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।

রাশিয়ায় নিযুক্ত লুহানস্কের প্রতিনিধি রডিওন মিরোশনিক বলেছেন, তেল শোধনাগারের পাশাপাশি যৌথ বাহিনী লিসিচানস্কের রাবার-টেকনিক্যাল প্রডাক্ট কারখানাটিও নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পুরো এলাকা শত্রুমুক্ত করা হয়েছে। এখন আরও উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হয়ে সৈন্যরা আভিযানিক কলড্রন তৈরি করছে।

তিনি বলেন, লিসিচানস্কে যাতায়াতের বড়-ছোট সবগুলো পথ এখন যৌথ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিসিচানস্ক-আরতেমোভস্ক মহাসড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহরের উত্তর-পশ্চিমে থাকা ইউক্রেনীয় বাহিনীর ১০ মাউন্টেন অ্যাসল্ট ব্রিগেডের একটি গাড়িবহর অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করতে গিয়ে যৌথ বাহিনীর গোলাবর্ষণের মুখে পড়েছে।

এদিকে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, খেরসন অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো এখন সম্পূর্ণভাবে কিয়েভের হাতছাড়া হয়েছে। কাছাকাছি অবস্থিত জাপরোঝঝিয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার দখলে গেলেও অন্যান্য বিদ্যুৎ অবকাঠামো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পৃথক খবরে জানা গেছে, রুশ বিমান বাহিনী নিকোলায়েভে ইউক্রেনীয় বাহিনীর দক্ষিণাঞ্চলীয় অপারেশনাল কমান্ডের সদর দপ্তর ধ্বংস করেছে। খেরসন ও সংলগ্ন অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড নিকোলায়েভের ওকিয়ান শিপইয়ার্ড থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছিল। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওকিয়ানে বিমান হামলায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর দুই জেনারেলসহ ২০ জন কর্মকর্তা নিহত ও বিপূল সংখ্যক সৈন্য হতাহত হয়েছে।