আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 11 মিনিট আগে

তাবলীগের শীর্ষ মুরব্বী মাওলানা মোহাম্মদ সাদকে ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে এখন সারা দেশে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। বৃহস্পতিবার বিকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে মাওলানা সাদকে ইজতেমায় অংশগ্রহণের পরিবর্তে ভারতে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। যদিও বুধবার কাকরাইলে তাবলীগের শুরাদের পরামর্শে মাওলানা সাদের ইজতেমায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

airport area

জানা গেছে, হেফাজতপন্থী কিছু আলেমের চাপেই এমন সিদ্ধান্ত সরকারকে নিতে হয়েছে। যদিও হেফাজত আমির মাওলানা আহমদ শফী এ বিষয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য করেননি।

মাওলানা সাদের আগমন বিষয়ে গত দু সপ্তাহ পূর্বে বাংলাদেশ থেকে একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফরে যান। সে প্রতিনিধি দলে ছিলেন কাকরাইলের মাওলানা জুবায়ের, সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম। আলেমদের প্রতিনিধি ছিলেন ২০ দলীয় জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাংগঠিনক সম্পাদক মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মাওলানা মাহফুজুল হক। প্রতিনিধি দল দারুল উলুম দেওবন্দ, দিল্লির নিজামুদ্দীন মার্কাজ ও গুজরাট সফর করেন।

দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ তাদের মতামতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের ইজতেমায় তাবলীগের কে যাবে না যাবে, সে বিষয়ে দেওবন্দ কোন বক্তব্য দেবে না। মাওলানা সাদের ওপর দেওবন্দ সন্তুষ্ট কি না, এ ব্যাপারে দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানী জানিয়েছেন, হযরত মুসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে মাওলানা সাদের বিতর্কিত বক্তব্যটি প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে প্রত্যাহার করলে তারা সন্তুষ্ট হবেন।

এরই প্রেক্ষিতে গত ২৫ ডিসেম্বর তাবলিগের বিশ্ব মারকাজ নিজামুদ্দীনের মিম্বরে মাওলানা সাদ তার বিতর্কিত বক্তব্যগুলো থেকে প্রকাশ্য রুজু করেছেন। সে হিসেবে তাবলীগের অধিকাংশ মুরব্বীগণ মাওলানা সাদের আগমনের পক্ষে থাকলেও হেফাজতের কয়েকজন নেতা আপত্তি করেন। তারা মাওলানা সাদকে ভিসা না দিতে সরকারকে আহ্বান জানান। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ভিসায় মাওলানা সাদ বুধবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশে আসেন।

maolana saad conflict

তার আগমনের প্রতিবাদে সকাল থেকে কয়েকশো মাদ্রাসা ছাত্র বিমানবন্দরের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় বিশেষ নিরাপত্তায় তাকে কাকরাইল মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়।

হেফাজত নেতারা মাওলানা সাদকে ভারত ফেরত পাঠানোর দাবিতে আন্দোলনের হুমকি দেন। সরকারের তরফ থেকে তাবলীগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত থাকলেও হেফাজত নেতাদের চাপে তাকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

Add comment

Security code
Refresh