আপনি পড়ছেন

এক যুগ আগে ২০১১ সালে পতন ঘটেছিল লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির। তার বিরুদ্ধে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে অত্যাচার, নিপীড়ন, বিরোধী মতাবলম্বীদের হত্যাসহ নানা ধরনের অভিযোগ তুলেছিল পশ্চিমা বিশ্ব। তবে এতদিন পরও জাতিসংঘের রিপোর্ট বলছে, অবস্থা এক যুগের আগের তুলনায় উন্নত তো হয়নি, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। খবর মিডলইস্টমনিটর।

lybiaলিবিয়া

আরব বসন্তের জেরে ২০১১ সালে বিক্ষোভের সূচনা হয় উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়াতেও। সে সময় পশ্চিমা বিশ্ব চেয়েছিল লিবিয়ায় হামলা চালাতে। তাদের দীর্ঘদিনের শত্রু মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। কিন্তু স্বাধীন, সার্বভৌম এবং জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র লিবিয়াতে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করার অজুহাত প্রয়োজন ছিল। তাই তারা গাদ্দাফির বিরুদ্ধে নাগরিকদের স্বাধীনতার অভাব, মানবাধিকার লঙ্ঘন বেসামরিক বিক্ষোভকারীদের হত্যা এবং সংবিধানবিহীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিযোগ আনে।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মন্তব্য করেছিলেন, গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে যেতেই হবে, কারণ তিনি ‘শাসন করার বৈধতা’ হারিয়েছেন। লিবিয়ায় অভিযান চালাতে জাতিসংঘের সবুজ সংকেতও লাভ করেন তারা। লিবিয়াকে অবাধ, স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক করতে এবং লিবিয়ানদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিতেই অভিযান চালানোর দাবি করে পশ্চিমা বিশ্ব।

lybia 2গাদ্দাফির পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে লিবিয়ার

ওই অভিযানের এক পর্যায়ে ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর গাদ্দাফি নিহত হন। এরপর পার হয়ে গেছে এক যুগের বেশি সময়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো সংবিধান তৈরি হয়নি। মৌলিক ও মানবাধিকারের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অনেকগুলো সংস্থা এখনও কোনো রকম দায়মুক্তি ছাড়াই কাজ করে থাকে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ১৯ পৃষ্ঠার ওই নথিতে জাতিসংঘ লিবিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বলা হয়ছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো সেখানে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন তুলে ধরে ত্রিপোলির একজন আইনের ছাত্র বলেন, লিবিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এখন গাদ্দাফির আমলের চেয়ে খারাপ। দেশটি এখনও দুটি ভিন্ন প্রতিযোগী প্রশাসনের অধীনে বিভক্ত। ত্রিপোলিতে জাতিসংঘ স্বীকৃত জাতীয় ঐক্যের সরকার রয়েছে। আবার অন্যদিকে একটি সমান্তরাল প্রশাসন দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণের কিছু অংশ পরিচালনা করে। এছাড়া আছে মিলিশিয়া, যারা অন্য যে কোনো সরকারি নিরাপত্তা সংস্থার চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লিবিয়ার আরেক নাগরিক বলেন, প্রতিবেদনে যে তথ্যই থাকুক না কেন, লিবিয়ায় ব্যক্তি ও সামগ্রিক অধিকার পরিস্থিতি আসলেই খুব খারাপ। দেশজুড়ে জোরপূর্বক গুম, অপহরণ, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

Get the latest world news from our trusted sources. Our coverage spans across continents and covers politics, business, science, technology, health, and entertainment. Stay informed with breaking news, insightful analysis, and in-depth reporting on the issues that shape our world.

360-degree view of the world's latest news with our comprehensive coverage. From local stories to global events, we bring you the news you need to stay informed and engaged in today's fast-paced world.

Never miss a beat with our up-to-the-minute coverage of the world's latest news. Our team of expert journalists and analysts provides in-depth reporting and insightful commentary on the issues that matter most.