আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 26 মিনিট আগে

আগের ম্যাচেও ক্রোয়েশিয়ার জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের গোলে জিতিয়েছিলেন দলকে। তার শেষ সময়ের গোলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া।

mandzukic becomes the first player ever to score an own goal in a world cup final

রোববার মস্কোর রোমাঞ্চকর ফাইনালেও গোল করেছিলেন মান্দজুকিচ। একটি নয়, দু’ দুটি গোল করেছিলেন ক্রোট স্ট্রাইকার। কিন্তু প্রতিপক্ষের জালে নয়, প্রথমবার নিজেদের জালেই বল জড়িয়েছিলেন তিনি। ফাইনালের ১৮ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করে রীতিমতো খলনায়ক বনে গেলেন মান্দজুকিচ।

ফ্রেঞ্চ ফরওয়ার্ড অ্যান্তনি গ্রিজম্যানের ফ্রি-কিক থেকে নেয়া শটটা বিপদমুক্ত করতে ডি-বক্সের লাফিয়ে উঠেছিলেন মান্দজুকিচ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার মাথা ছুঁয়ে বল গিয়ে আশ্রয় নেয় ক্রোয়েশিয়ার জালে। এই গোলেই ম্যাচের শুরুতে লিড নিয়েছিল ফ্রান্স।

বিরতির পর অবশ্য সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেছিলেন মান্দজুকিচ। ৬৯ মিনিটে দারুণ এক গোল করেছিলেন তিনি। কিন্তু বড্ড দেরি হয়ে গেছে। ততক্ষণে ফাইনালের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে ক্রোয়েশিয়া। শেষ অবধি মান্দজুকিচের দ্বিতীয় গোলটা দলের পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে মাত্র।

শিরোপার খুব কাছে এসেও সুযোগটা হাতছাড়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ মডরিচ-রাকিটিচরা। তবে মস্কোর ফাইনাল থেকে সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নটা বোধহয় মান্দজুকিচই পেয়েছেন। গড়েছেন এক বিব্রতকর রেকর্ড। যেটা ক্রোয়াট স্ট্রাইকার চাইলেও কোনোদিন ভুলতে পারবেন না।

আসলে বিশ্বকাপের ইতিহাসই তাকে এটা ভুলতে দেবে না। প্রথম ফুটবলার হিসেবে ফাইনালে আত্মঘাতী গোল করেছেন মান্দজুকিচ। এ এক এমনই অপয়া গোল, অভিশপ্ত যে গোলে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে কপাল পুড়েছে ব্রাজিল, রাশিয়ার মতো আলো ছড়ানো দলগুলোর। রোববার যেমন পুড়ল ক্রোয়েশিয়ারও।

কাল ভিলেন চরিত্র হাজির হয়েছিলেন সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার জয়ের আরেক নায়ক ইভান পেরিসিচও। প্রথমার্ধে ডি-বক্সে হ্যান্ডবল করেন তিনি। পরে ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারির সহায়তায় পেনাল্টি সিদ্ধান্ত জানান ম্যাচ রেফারি। পেনাল্টি থেকে সহজেই গোল করেন ফ্রেঞ্চ ফরওয়ার্ড গ্রিজম্যান। মূলত এই গোলটিই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে।

ভাগ্য আসলে এমনই। কখনো স্বপ্ন দেখাবে কখনো বা সেটা ভেঙে চৌচির করে দেবে। ক্রোয়েশিয়ার বেলায় সেটাই ঘটলো। মান্দজুচিক এবং পেরিসিচ ফাইনালের দুর্ভাগা দলের দুই হতভাগ্য। একটা ম্যাচের ব্যবধানে দুজনই দেখে নিলেন মুদ্রার অন্য পিঠটাও। দুজনই হয়ে উঠলেন ফাইনালের ট্র্যাজিক হিরো। 

তবে প্রথমবার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরেছিল ক্রোয়েশিয়া। পরে ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার পরও ফ্রান্সকে একটি গোলের শোধ দিয়ে ক্রোয়াটরা ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত মডরিচ-মান্দজুচিক-পেরিসিচ-রাকিটিচরা পারেননি ঘাটতিটা পুষিয়ে উঠতে। তবে মস্কোতে হারলেও ক্রোয়েশিয়া হৃদয় ছুঁয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের।

ছোট্ট ক্রোয়েশিয়া স্বপ্ন দেখাতে শিখিয়ে গেল বিশ্বের সব ছোট দেশকে। আসলে জনসংখ্যা বা দেশের আয়তন নয়- আবেগ, পরিকল্পনা এবং মানসিক শক্তি থাকলে যে কোনো দলই ক্রোয়েশিয়ার মতো এমন বিস্ময় উপহার দিয়ে ফাইনালে উঠতে পারে। ভাগ্য পাশে থাকলে হয়তো চ্যাম্পিয়নও হতে পারে কোনো দেশ।

Add comment

Security code
Refresh