আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 43 মিনিট আগে

অবসর ভেঙে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলতে চেয়েছিলেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। কিন্তু সুইডেন ফুটবলের কর্তাব্যক্তিরা এবং কোচ তার প্রত্যাবর্তনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এখন বোধহয় সেইসব মানুষই আফসোস করছেন। ইব্রার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে চাপড়াচ্ছেন কপাল!

ibra strikes hat trick as rooney injured his nose

সুইডিশরা এখন এমনটা ভাবতে পারেন যে, বিশ্বকাপে ইব্রা থাকলে আরো অনেকদূর এগোতে পারতেন তারা। কারণ সপ্তাহ দুয়েক আগে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে দক্ষ একজন ফিনিশারের অভাব ভুগিয়েছে সুইডেনকে। শেষ পর্যন্ত শেষ আটে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে ইউরোপের পরাশক্তি দলটি।

এই দেশেরই সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন ভাবা হয় ইব্রাকে। যিনি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন ফুটবলে যাওয়ার পর থেকেই আগুন ঝরিয়ে যাচ্ছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পিএসজি, বার্সেলোনা, মিলান, জুভেন্টাসের প্রাক্তন স্ট্রাইকার করে যাচ্ছেন একের পর এক গোল। রোববার তো এলএ গ্যালাক্সির হয়ে মার্কিন ফুটবলে প্রথম হ্যাটট্রিকটাও করে ফেললেন ইব্রা।

তার তিনটি গোলই ছিল দেখার মতো। ওরলান্ডো সিটির বিপক্ষে সাত গোলের থ্রিলার ম্যাচে দু’ দুবার এলএ গ্যালাক্সিকে সমতায় ফিরিয়েছেন ইব্রা। জয়সূচক গোলটাও ছিল তার করা (৪-৩)। এলএ গ্যালাক্সির শুরুর গোলেও ছিল ইব্রার অবদান। ম্যাচের শুরুতে জিওভান্নি দোস সান্তোস যে গোলটা করেছেন সেটা যোগান এসেছে ইব্রার হেড থেকেই। ইব্রা নিজেও হেড থেকে এদিন দুই গোল করেছেন।

ইব্রার আলোঝলমল রাতে নাক ভেঙেছেন তারই সাবেক ক্লাব সতীর্থ ওয়েন রুনি। কিন্তু রক্তাক্ত হওয়ার পরও মাঠ ছেড়ে যাননি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক স্ট্রাইকার। রোববার মেজর লিগ সকারে কলরাডো র‌্যাপিডসের এক ফুটবলারের আঘাতে নাক ভেঙে যায় রুনির। ডাগ আউট থেকে সেলাই নিয়ে তিনি ফিরে আসেন মাঠে!

ডিসি ইউনাইটেডের হয়ে প্রথম তিন ম্যাচে গোল পাননি রুনি। অবশেষে মার্কিন ফুটবলে ক্যারিয়ারের প্রথম গোলটি করেছেন ইংলিশ কিংবদন্তি। রুনির গোলের ওপর দাঁড়িয়ে জয়ের অপেক্ষায় ছিল ইউনাইটেড। কিন্তু ৮২ মিনিটে কলরাডোকে সমতায় ফেরান কেলাইন আকোস্তা।

ম্যাচের শেষ দিকে নিকি জ্যাকসনের আত্মঘাতী গোলে দ্বিতীয়বার এগিয়ে যায় রুনির দল। কিন্তু এরপরই ঘটল দুর্ঘটনাটা। কর্নার কিক বিপদমুক্ত করার জন্য নিজেদের ডি-বক্সে নেমে আসেন রুনি। সেখানেই নাকে চোট পান রুনি।

তবে মাঠে এবারই প্রথম রক্ত ঝরাননি তিনি। পাঁচ বছর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একটি ম্যাচে সতীর্থ ফিল জোন্সের আঘাতে কপাল ফেটেছিল রুনির। সেদিন রুনির কপালে ১২টি সেলাই পড়েছিল। এরপর গত মৌসুমে বোর্নমুথ ডিফেন্ডার সাইমন ফ্রান্সিসের কনুইয়ের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিলেন তিনি। মার্কিন ফুটবলে আগের দুই ঘটনারই যেন পুনরাবৃত্তি ঘটলো।

এসব ঘটনাই বলে দিচ্ছে ফুটবল ও মাঠের খেলায় রুনির নিবেদন কতটুকু। এই আত্মত্যাগের পরই বিশ্বজুড়ে বইছে রুনি-বন্দনা। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কও। ম্যাচ শেষে টুইটারে তিনি বলেছেন, ‘ডিসি ইউনাইটেডের হয়ে প্রথম গোল করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। যদিও আমার নাক ভেঙে গেছে। ওখানে পাঁচটা সেলাই পড়েছে।’

ডিসি ইউনাইটেড ২-১ কলরাডো র‌্যাপিডস
এল এ গ্যালাক্সি ৪-৩ ওরলান্ডো সিটি

Add comment

Security code
Refresh