আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 27 মিনিট আগে

মাহিন্দা রাজাপাকসের সমর্থক এমপিদের সৃষ্ট হট্টগোলের কারণে শুক্রবার শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট অধিবেশন বানচাল হয়ে যায়। রাজাপাকসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একটি অনাস্থা প্রস্তাব বানচাল করতে তার সমর্থকরা স্পিকারের দিকে বই, মরিচের গুঁড়ো এবং পানির বোতল ছুঁড়ে মারলে এ বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়।

srilanka parlament clash pic

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, অপসারিত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহ এবং রাজাপাকসের সমর্থকদের মধ্যে পার্লামেন্টে রীতিমতো মারপিট হয়। গত বৃহস্পতিবারও একই অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তার আগে বুধবার প্রেসিডেন্টের নিয়োগ করা নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের বিরুদ্ধে প্রথম অনাস্থা প্রস্তাব পাস হওয়ার পর হট্টগোলের সূত্রপাত।

শুক্রবার পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরুর আগেই রাজাপাকসের সমর্থক এমপি’রা স্পিকারের আসন অবরোধ করে রাখেন। তাদের অভিযোগ বিক্রমসিংহের সমর্থক দুই এমপি আগের দিন পার্লামেন্টে ছুরি নিয়ে ঢুকেছিলেন।

এতে অধিবেশন শুরু করতে বিলম্ব হয়। পুলিশ তখন জয়সুরিয়ার জন্য আরেকটি চেয়ার নিয়ে এলে সেটিতেও তাকে বসতে বাধা দেন রাজাপাকসের সমর্থকরা।

এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে স্পিকার জয়সুরিয়া কণ্ঠভোট নিতে এমপি’দের নাম ডাকা শুরু করলে রাজাপাকসের পক্ষের এমপিরা তার দিকে বইপত্র, মরিচের গুঁড়ো ছুঁড়ে মারেন।

গত কয়েকমাস ধরে চলা রাজনৈতিক সংকটের জেরে গত ২৬ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহ ও তার মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন। তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি রাজাপাকসেকে।

তবে প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে বে-আইনি বলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছাড়তে অস্বীকার করেন বিক্রমসিংহ। এরপর তার দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) পক্ষ থেকে আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়।

গত মঙ্গলবার কড়া নিরপত্তার মাঝে প্রধান বিচারপতি নলিন পেরেরার নেতৃত্বে তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ সিরিসেনার আদেশ বাতিল করে দেন। 

এ অবস্থায় বেকায়দায় প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। রাজাপাকসেকে বাতিল করে ফের বিক্রমসিংহকে স্বপদে বসাতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতায় পড়তে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Add comment

Security code
Refresh