আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 27 মিনিট আগে

যে কাজগুলো করে আমরা শান্তি পাই, মানসিক চাপ দূর হয় আর আনন্দের খোরাক হয় সেগুলোকেই শখ হিসেবে ধরা হয়। তবে হাজারটা শখের মধ্যে যে কয়টি আমাদের সর্বাধিক তৃপ্তি দেয় তাদের তালিকাও নেহায়েত কম নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় আমরা আমাদের শখগুলো ভুলতে বসেছি বটে তবে এই শখগুলো এতটাই শক্তিশালী যে, একবার করলে ভার্চুয়াল দুনিয়া পানসে মনে হবেই। যেমন গবেষণা বলছে, বই পড়ার মত শখগুলো জীবনের ৬৯ শতাংশ মানসিক চাপ কমায়। এটি নিশ্চয়ই আপনি সারাদিন নেট ঘাটলেও পাবেন না।

hobbies for healty health

বই পড়া একটি প্রধান শখ হলেও আজকাল অনেকের বই পড়ার সময় হয় না। গল্পের বই শেষ কবে ছুঁয়ে দেখেছেন হয়তো মনেও করতে পারেন না। কাজের ফাঁকে অন্য কাজে মন না দিয়ে একটা বই নিয়ে বসুন অথবা ছুটির দিনে এক মগ কফির সাথে পছন্দের একটা বই দিন তো বটেই একটা সপ্তাহও পাল্টে দিতে পারে। তাই হাতের কাছেই রাখুন পছন্দের বইগুলো।

দাবার ছকে নিজেকে বেঁধে শানিত করতে পারেন। মস্তিষ্ক উন্নতির সাথে সাথে সময়টাও কাটবে দুর্দান্ত। গাছ লাগাতে পারেন মনের দুঃখ-হতাশা কাটাতে। গ্রামে থাকলে তো কথাই নেই, আস্ত বাগান করতে পারেন। আর শহরে হলেও ঘরের জানালায় বা বারান্দার টবে লাগিয়ে ফেলুন ফুল, ফল আর বাহারি রঙের পাতার গাছ। পরিবেশ সুস্থ রাখার পাশাপাশি নিজের সুস্থতাও নিশ্চিত হয়ে যাবে।

ব্যায়াম হতে পারে উপকারী শখ। আটঘাট বেঁধে ব্যায়াম করতে হবে এমন না, সিঁড়ি ভেঙে উঠা বা ঘরেই কোনো হালকা ব্যায়াম বা যোগাসন হতে পারে শখের বিষয়। সাইকেলিংও হতে পারে আরেকটি উপকারী শখ।

পারেন আর নাই পারেন চেষ্টা করুন কিছু রান্না করতে। গবেষণা বলে, নিজেরা রান্না করলে রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায় আর পয়সাও বাঁচে অনেকটা। আবার নিজের হাতের রান্না করা খাবার কাছের মানুষদের খাইয়ে নিজেও তৃপ্তি পাবেন, নতুন নতুন অনেক রান্নাও শিখা হবে।

নতুন কিছুও করতে পারেন শখের বশে। আত্মরক্ষার জন্য শিখে নিতে পারেন কোনো প্রশিক্ষণ। জুডো, কুংফু মার্শাল আর্ট হতে পারে সেরা উপায়গুলোর একটি। সাঁতার না জানলে শিখে নিতে পারেন এটিও। শেখার সাথে সাথে ব্যায়ামও হবে। সপ্তাহে দুদিন নেমে পড়ুন পানিতে; মনটাও হালকা হবে।

মনের শান্তির জন্য যেকোনো স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে যান। মনের শান্তির জন্য অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর থেকে আর কোনো ভালো উপায় নেই বললে চলে। পুকুরে ছিপ ফেলে ধরতে পারেন মাছও। খানিকটা ধৈর্য্য ধরতে হলেও শখ হিসেবে চমৎকার এটি।

শিখতে পারেন নতুন কোনো ভাষা বা লিখতে পারেন মনে যা আসে। মনের মাধুরি মিশিয়ে লিখেই ফেলুন না একটা কবিতা- অন্যের জন্য না হোক নিজের কী পরিমাণ শান্তি লাগবে বলে বোঝাতে পারবেন না। ছবি আঁকা বা ছবি তোলাতেও অবসরটা সঁপে দিতে পারেন।

সুই-সুতা দিয়েও অবসর জীবনটা রঙিন করে তুলতে পারেন। যা খুশি ফুটিয়ে তুলুন রঙিন সুতায়। চিনা শিশুদের মতো অত সুন্দর না হলেও করে ফেলুন কাগজের অরিগ্যামি। ইউটিউবে হাজার রকম নিয়ম আর কৌশল শেখানো হয়। তা দেখে নিজের করা শিল্প দিয়েই না হয় নিজের ঘরটা সাজিয়ে ফেলুন।

তবে এই শখগুলো যেন প্রয়োজনীয় কাজগুলো থেকে আপনাকে দূরে সরিয়ে না রাখে সেদিকেও খেয়াল রাখুন। একটি বা কয়েকটি শখ যেন আপনার মনের শান্তির খোরাক হয় সেদিকে নজর দিন। আবার শখ খুঁজতে গিয়ে জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতেও পারেন। খুঁজে পেতে পারেন ভালবাসার কাজটি।

Add comment

Security code
Refresh