advertisement
আপনি পড়ছেন

শেষ রক্ষা হল না জায়েদ খানের। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো জয়ী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনের দিন থেকেই অনিয়মের অভিযোগ পিছু ছাড়ছিল না তার। তাই শেষ পর্যন্ত পদ হারাতে হল তাকে। বিপরীতে মাত্র ১৩ ভোটে হেরে যাওয়া চিত্রনায়িকা নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

zayed khan nipunজায়েদ খান ও নিপুণ

নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান চলচ্চিত্র নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান আজ শনিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এ ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে এফডিসিতে আপিল বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই জায়েদ খানকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় আপিল বোর্ড। একই সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিপুণকে বিজয়ী ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী সমিতির নির্বাচন। ওই নির্বাচনে দুটি প্যানেল অর্থাৎ কাঞ্চন-নিপুণ এবং মিশা-জায়েদ প্যানেল অংশ নেয়। নির্বাচনে বরেণ্য অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন সভাপতি নির্বাচিত হলেও তার প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে হেরে যান নিপুণ। অপরদিকে, মিশা সওদাগর হেরে গেলেও ওই প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেন জায়েদ খান।

কিন্তু নির্বাচনের দিনই সংবাদ মাধ্যমের কাছে নিপুণ অভিযোগ করেন যে, জায়েদ খান টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন। সে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন জায়েদ খান। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পুনঃগণনা চেয়ে আপিল করেন নিপুণ। কিন্তু পুনঃগণনাতেও বিজয়ী হন জায়েদ।

এরপর বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কাঞ্চন-নিপুণ পরিষদ। সেখানে জায়েদ খানের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন নিপুণ। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে জায়েদ খানের আলোচনার কিছু স্ক্রিনশট দেখানো হয়। যেখানে দেখা যায়, নির্বাচনে নানাভাবে প্রস্তাব বিস্তার করেছেন জায়েদ খান।

এরপর নিপুণ নির্বাচনের আপিল বোর্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। এরপরই বোর্ডকে বিষয়টির সুরাহা করার দায়িত্ব দেয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে আজ শনিবার বিকালে বৈঠক ডাকে আপিল বোর্ড। এতে নিপূণ অংশ নিলেও ছিলেন না জায়েদ।

তবে জায়েদ খানের অনুপস্থিতিতেই শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থেকে তাকে অপসারণের ঘোষণা দেন সোহানুর রহমান সোহান। নির্বাচনে অনিয়ম করার অভিযোগে তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে তিনি তার পরিবর্তে নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেন।

গত ২৮ জানুয়ারির ওই নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪২৮ জন। এর মধ্যে ৩৬৫ জন তাদর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে ১৯১ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে বিজয়ী হন ইলিয়াস কাঞ্চন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিশা সওদাগর পান ১৪৮ ভোট। অপরদিকে, ১৭৬ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছিলেন জায়েদ খান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিপুণ পান ১৬৩ ভোট। তবে নির্বাচনে নিপুণ ও জায়েদের কিছু ভোট নষ্ট দেখানো হয়। যেখানে জায়েদের চেয়ে নিপুণের ভোটের সংখ্যা বেশি। সেটা নিয়েও নানা সন্দেহ তৈরি হয় শুরু থেকেই।