advertisement
আপনি পড়ছেন

গত ২৮ জানুয়ারি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। এতে দুটি অর্থাৎ কাঞ্চন-নিপুণ এবং মিশা-জায়েদ প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনের দিন এফডিসি প্রাঙ্গণ বেশ সাজসাজ রব বিরাজ করলেও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জায়েদ খানের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার ও টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তা যেন ম্লান করে দিচ্ছিল।

dipjol rubel and mousumiডিপজল-রুবেল-মৌসুমী

দিনের সেই উৎসব সন্ধ্যার পরই অনেকের ‘বিষাদের’ উপলক্ষ হয়। কারণ মাত্র ৩৬৫টি ভোট গণনা যেন শেষ হচ্ছিল না, সন্দেহও ঘনীভূত হতে থাকে। অনেক প্রতীক্ষার পর সেই ফল ঘোষণা করা হয় পরের দিন সকালে। দেখা যায়, জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন সভাপতি নির্বাচিত হলেও তার প্যানেলের নিপুণ ১৩ ভোটে হেরে গেছেন। অপরদিকে, সভাপতি পদে মিশা সওদাগর হেরে গেলেও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জায়েদ খান।

ফলাফল পুনঃগণনার জন্য আপিল করেন চিত্রনায়িক নিপুণ আক্তার। তাতেও বিজয়ী জায়েদ। এরপর সংবাদ সম্মেলন ডেকে জায়েদ খানের অনিয়মের চিত্র সংবাদ মাধ্যমে তুলেন ধরেন নিপুণ। একই সঙ্গে নির্বাচনী বোর্ডে আবেদন করেন যেন জায়েদকে অপসারণ করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখে বোর্ড। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বোর্ড সভা শেষে জায়েদকে অপসারণ করে নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

রোববার নবনির্বাচিত কমিটি শপথ নিয়েছে। তাদের শপথ পড়িয়েছেন হেরে যাওয়া সভাপতি মিশা সওদাগর। কারণ তিনি বিগত কমিটির সভাপতি ছিলেন। তবে এদিন শপথ নেননি ডিপজল, রুবেল ও মৌসুমীরা। নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে হারলেও অন্যান্য পদে কয়েকজন নির্বাচিত হয়েছেন যারা মিশা-জায়েদ প্যানেলের। তাদের অন্যতম হলেন ডিপজল, রুবেল ও মৌসুমী।

এদিন তারা শপথ না নেওয়ায় নানা গুঞ্জন চলছে। হওয়াটাও স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হলো কেন শপথ নিলেন না তারা? এর কয়েকটি উত্তর হতে পারে। প্রথমত, তারা ভিন্ন প্যানেল থেকে নির্বাচিত, শীর্ষ পদে তাদের কেউ নেই। দ্বিতীয়ত, ভোটের ফলাফলে জিতলেও আপিলে হেরে গেছেন জায়েদ খান। যেটা স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তির বিষয়। কেউ কেউ বলছেন, তাদের শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করার অন্যতম কারণ হলো জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল হওয়া। কারণ তারা একই প্যানেলের।

আবার এমনও শোনা যাচ্ছে যে, জায়েদ খান তার প্যানেলের বিজয়ী প্রার্থীদের নিয়ে আলাদাভাবে শপথের আয়োজন করবেন। কারণ আপিল বোর্ড যে তার প্রার্থিতা বাতিল করেছে, সেটা তিনি মেনে নেননি। বরং একে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি আপিল বোর্ডকেই অবৈধ বলে অভিযোগ করেছেন জায়েদ। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

জায়েদ খান ও তার প্যানেলের অন্য বিজয়ীরা কী করবেন, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে কাঞ্চন-নিপুণ পরিষদের নির্বাচিতরা এদিন শপথ গ্রহণের পর নিজেদের চেয়ারে বসেছেন এবং দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। অর্থাৎ তারা আনুষ্ঠাকিভাবে তাদের কাজকর্ম শুরু করেছেন। খোদ জায়েদের প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মিশা তাদের শপথ পড়ানোর পাশাপাশি একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনেক ভুল করেছেন স্বীকার করে মাফও চেয়েছেন। অনুরোধ করেছেন, নতুন কমিটি যেন পেছনের সবকিছু ভুলে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। সেই অগ্রযাত্রায় থাকবেন তিনিও।