advertisement
আপনি দেখছেন

বাংলাদেশ সরকার নাগরিকের স্বাধীন মত প্রকাশকে সুরক্ষিত না করে বরং বাক স্বাধীনতা খর্ব করতেই সদা প্রস্তুত রয়েছে, এমন দাবি করছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এমন দাবি তুলে ধরে।

amnesty faces case in india

‘ভয় আর দমন-পীড়নের ফাঁদে বাংলাদেশে বিরুদ্ধ মত’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে জঙ্গি হামলা আর হুমকির মুখে বাংলাদেশে স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত হওয়ার বিষয়ে প্রতিপাদ্য হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে এও উল্লেখ করা হয় যে, নাগরিকের স্বাধীন মত প্রকাশে সরকার সুরক্ষা দেওয়ার বদলে উল্টো বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ করতে নানা কৌশল ও আইনের মারপ্যাচ অবলম্বন করছে।

অ্যামনেস্টির বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষক ওলফ ব্লোমকভিস্ট বলছেন, 'হামলা ও হুমকিতে জর্জরিত বাংলাদেশের ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। তার বদলে হুমকির মুখে থাকা ওসব ব্যক্তিদেরই উল্টো দায়ী করে অপরাধীদের মদদ জোগাচ্ছে।'

প্রতিবেদনে লেখা হয়, গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে মাত্র একটির বিচার হয়েছে। আর সেটি হলো ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আটজনের সাজা। অনেকেই নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করলেও কোন কাজ হয়নি। ফলে কেউ কেউ দেশত্যাগের চেষ্টাও করছে।

অ্যামনেস্টি দাবি করেছে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গণমাধ্যমে নিজের সমালোচনা আটকাতে নানা কৌশল ব্যবহার করেছে। ব্লোমকভিস্ট বলেন, 'সরকার সাংবাদিকতাকে অপরাধের সমতুল্য আচরণ করছে। সাংবাদিকদের ভয় দেখাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে, কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। সরকারের প্রতি বিরুদ্ধ মত দমনে যা যা করতে হয়, তার সবই করছে সরকার।'

সাংবাদিকদের দমনের সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৮৩টি মামলা ও হাসিনাপুত্র জয়কে অপহরণের চেষ্টায় শফিক রেহমানের বন্দির কথা। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে এসব দমন-পীড়ন বন্ধ করে যারা হুমকির সম্মুখীন রয়েছে তাদের নিরাপত্তা বিধানের দাবি জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ইস্ট লন্ডনের একটি হোটেলে আয়োজিত এই প্রতিবেদন প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্লগার সিনথিয়া আরেফিন।