advertisement
আপনি দেখছেন

রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের বহুল আলোচিত ঘটনায় ওই রাতে হোটেলে উপস্থিত থাকা অভিযুক্তদের বান্ধবী নাজিয়া ও তানজি আলিশা গ্রেফতার হতে পারেন বলে জানা গেছে।

nari nirjaton

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, ওই রাতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত নাজিয়া ও তানজি আলিশার চালচলন সন্দেহজনক ছিল। তারা সাফাত, নাঈম ও সাকিফের বান্ধবী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নাজিয়া ও তানজি আলিশাকে আটক করা হতে পারে।

তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া ছাড়াও ওই দুজন ঘটনার সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দিও দিতে পারেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে এই মামলায় অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সে ব্যাপারে এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

সোমবার বিকাল বেলা ডিএমপির নির্দেশনায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ। ইমিগ্রেশন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বহুল আলোচিত মামলার আসামিরা হলেন- সাদনান সাফিক, তার বন্ধু সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাফাতের ড্রাইভার বিল্লাল ও তার দেহরক্ষী।

বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের এএসপি পদ মর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, 'ধর্ষণ মামলার আসামিরা যেন পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য ডিএমপির লিখিত ও মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে। আমাদের সতর্ক প্রস্তুতি রয়েছে।'

সোমবার দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি, উত্তর) উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, 'আমরা ইতিমধ্যে বনানীর ওই জন্মদিন পার্টির ঘটনায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করেছি। আসামিরা যতোই প্রভাবশালী হোন না তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।'

উল্লেখ্য, এই ঘটনায় অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের সন্তান।

গত ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীস্থ 'দ্য রেইন ট্রি' হোটেলে সাফাত আহমেদ নামে এক বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে বন্ধুদের প্ররোচনায় ধর্ষণের শিকার হন দুই তরুণী। ঘটনার প্রায় ৪০ দিন পর গত শনিবার সন্ধ্যায় বনানী থানায় মামলা করেন ওই দুই তরুণী। মাললায় আসামী মোট ৫ জন, মামলা নং ৮।