advertisement
আপনি দেখছেন

কদিন ধরেই বলা হচ্ছিলো, ক্রিকেটীয় শক্তি-সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতায় দুই দলের পার্থক্য অনেক বেশি হলেও আফগানিস্তান-বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজটিতে দেখা যেতে পারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কিন্তু প্রথম ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কিছুই চোখে পড়লো না। ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরেছে প্রায় বিনপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

six reasons why bangladesh lost to afghanistan

টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে আফগানিস্তান এগিয়ে ঠিকই, তাই বলে বাংলাদেশ তাদের কাছে এ রকমভাবে হারতে পারে কিনা, এই প্রশ্ন সামনে রেখে চলছে হারের চুলচেরা বিশ্লেষণ। যে বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসছে নানা কারণ। এ রকম পাঁচ কারণ নিয়ে এই প্রতিবেদন।

বিতর্কিত একাদশ

আবুল হাসান রাজু আফগানিস্তান সিরিজের মূল দলে ছিলেন না। তাকে রাখা হয়েছিলো স্ট্যান্ডবাই তালিকায়। সেখান থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের চোটের কারণে সুযোগ পান তিনি। সিরিজের আগে খেলা একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও তিনি ছিলেন না। তারপরও তাকে কেনো মূল একাদশে নেয়া হলো, এর কোনো যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়নি। তার বদলে সুযোগ পেতে পারতেন আরিফুল হক। ব্যাটিংয়ের সাথে যার বোলিংও বাংলাদেশকে দিতে পারতো প্রয়োজনীয় কিছু। ম্যাচ শেষে দেখা যাচ্ছে, আবুল হাসানসহ যে তিন পেসারের আক্রমণ সাজিয়েছে বাংলাদেশ, তা কোনো কাজে লাগেনি। এক রুবেল ছাড়া কোনো কাজে লাগেননি অপর দুই পেসার। শেষ তিন ওভারের দুটিতে আবুল হাসান ও আবু জায়েদ খরচ করেছেন ৩৯ রান। যা বাংলাদেশকে ছিটকে দিয়েছে ম্যাচ থেকে।

দুর্বলতম পেস আক্রমণ

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে টানা দুই বছর বাংলাদেশের পেস আক্রমণ ছিলো সমীহ জাগানিয়া। যে আক্রমণের নেতৃত্ব ছিলো মাশরাফি বিন মর্তুজার কাঁধে। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে চলে এলেও বোলার মাশরাফি এখনো অসাধারণ। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ মৌসুমে মাশরাফি আরো একবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলতে নেমেছে টেস্ট স্ট্যাটাস-পরবর্তী নিজেদের সম্ভাব্য সবচেয়ে দুর্বল পেস আক্রমণ নিয়ে। যেখানে রুবেল হোসেন ছাড়া ভরসা করার মতো কেউ।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের একাদশে ছিলেন আবুল হাসান রাজু। ছয় বছর পর যিনি টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন। কিন্তু কেনো তাকে ফেরানো হয়েছে, সে বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো যুক্তি দিতে পারেননি প্রধান নির্বাচক। আবুল হাসান প্রথম ম্যাচে নিজেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আবু জায়েদ রাহি ঘরোয়া পর্যায়ে ভালো খেললেও প্রথম ম্যাচে ছিলেন একেবারে সাধারণ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের হারের মূল কারণ দুর্বল পেস আক্রমণ।

মাহমুদুল্লাহকে এক ওভারের বেশি না দেয়া

সাকিব আল হাসান চতুর্দশ ওভারে বল তুলে দেন মাহমুদুল্লাহর হাতে। এক ওভারে মাত্র এক রান দিয়ে মূল্যবান দুটি উইকেট তুলে নেন তিনি। ওই ওভারের পর ইনিংসের বাকি ছিলো আরো ছয় ওভার। কিন্তু সাকিব আর বল দেননি মাহমুদুল্লাহর হাতে। কেনো দেননি, ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে না আসায় এ বিষয়ে সাকিবের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে ব্রডকাস্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাকিব সেখানে বলেছেন, মাহমুদুল্লাহকে না দিয়ে যাদের হাতে তিনি বল দিয়েছেন, তারা যদি ভালো কিছু করতেন, তাহলে হয়তো এই কথা উঠতো না। কিন্তু যৌক্তিকভাবেই মাহমুদুল্লাহ আরো একটা ওভার পেতে পারতেন কিনা, এ বিষয়ে সাকিবের কোনো বক্তব্য নেই।

শেষ পাঁচ ওভারের ব্যর্থতা

শেষ পাঁচ ওভারে আফগানিস্তান তুলেছে ৭১ রান। বিশ্বের বড় বড় দল এইভাবে রান তুলে অভ্যস্ত। কিন্তু ক্রিকেটীয় শক্তিতে আফগানদের চেয়ে এগিয়ে থেকেও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশ দিয়েছে ৫২ রান। এর মধ্যে ১৮ ও ২০ ওভারে মোট ৩৯ রান দিয়েছেন আবু জায়েদ ও আবুল হাসান। অর্থাৎ এই ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে সাকিব আরো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

রশিদ-মুজিবে অতিভাবনা

সিরিজের জন্য প্রস্তুতিপর্ব থেকেই শুরু হয়েছিলো রশিদ খান ও মুজিব উর রহমানকে নিয়ে অতিভাবনা। যে ভাবনার ফল মিলেছে প্রথম ম্যাচেই। তামিম ইকবাল ইনিংসের প্রথম বলে মুজিবকে উইকেট দিয়ে দেন। বলটি খেলার সময় তামিম যে ঠিক ফোকাসড ছিলেন না, তা তার খেলার ধরণেই বোঝা গেছে। মুজিবের চেয়ে একধাপ এগিয়ে ছিলেন রশিদ। তিনি প্রথম বলে বিদায় করেন মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমানকে। রশিদের প্রথম বলে মুশফিক আউট হন সুইপ করতে গিয়ে। অথচ রশিদকে সাবধানে খেলার জন্যই এতোদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা!