আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 33 মিনিট আগে

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই রায় ঘোষণা করেন।

crime law

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আবদুল খালেক তালুকদার, শেখ আবদুল মজিদ ওরফে মজিদ মাওলানা (৬৬), মো. কবির খান (৭০), আবদুস সালাম বেগ (৬৮) ও মো. নূরউদ্দিন ওরফে রোদ্দিন (৭০)। এদের সবার বাড়ি পূর্বধলা উপজেলায়। আসামিরা প্রত্যেকেই পলাতক রয়েছেন।

তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট, হত্যা, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে পাঁচ রাজাকারের রায়ের দিন বৃহস্পতিবার ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল। গত ২৮ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

গত ২৮ জানুয়ারি বিচারপতি শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোখলেছুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নী এবং আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।

মুন্নী জানান, এই মামলায় প্রথমে সাতজন আসামি ছিল। সাত আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল তদন্ত সংস্থা। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওইদিনই এক আসামি আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ট্রাইব্যুনালে এই মামলার যুক্তিতর্কের সময় গ্রেপ্তারকৃত আবদুর রহমান (৭০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান। এর আগে এক আসামি আহমদ আলী (৭৮) অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আগেই ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর মারা যায়।

তিনি বলেন, ‘বাকি পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগই আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালতের কাছে আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) চেয়েছি।’

এই রাজাকারদের বিরুদ্ধে একাত্তরে ডা. হেম সুন্দর বাগচী হত্যা, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের বাড়িতে নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় বলে রাষ্ট্রপক্ষে অভিযোগ রয়েছে।