আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 00 মিনিট আগে

বাংলা সনের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবে যে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয় তা ইসলামি শরিয়ত সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তিনি বলেন, 'কোনো মুসলমান মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারে না।' শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

ahmad shofi

আল্লামা আহমদ শফী বলেন, 'ষোড়শ শতকে মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলা বর্ষপঞ্জি তৈরি হয় ফসল রোপণ এবং কর আদায় সহজ করতে। তখন হালখাতা, পিঠাপুলি বানানোর মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হতো। কিন্তু বর্তমানে নতুন নতুন আয়োজন যোগ হচ্ছে তাতে ধর্মীয় বিধানের বিপরীতে অবস্থান নেয়া হচ্ছে, পাশাপাশি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি হুমকিতে পড়ছে।'

নববর্ষের আয়োজনে ধীরে ধীরে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটছে বলেও মন্তব্য করেন হেফাজতের এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, এমন আয়োজন বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্য কখনোই কল্যাণকর নয়। জীবনের কল্যাণ ও মঙ্গল-অমঙ্গল সবকিছুই হয় আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর হুকুমে। পৃথিবীর সকল মুসলমান এটাই বিশ্বাস করেন। মূর্তি,ভাস্কর্য,পোস্টার, ব্যানার ফেস্টুন ও মুখোশে মঙ্গল-অমঙ্গল হতে পারে না। এসব বাঘ, কুমির, বানর, পেঁচা, কাকাতুয়া, ময়ূর, দোয়েলসহ বিভিন্ন পশুপাখি মঙ্গল আনতে পারে না।'

তিনি বলেন, 'এসব বিশ্বাস ইসলামি শরিয়তবিরোধী চেতনা। আধুনিক সময়ে এসব মূর্তি-ভাস্কর্য ও জীবজন্তুর ছবিতে মঙ্গল-অমঙ্গল কামনা করা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণা।'

মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রসঙ্গে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে মাত্র ২৮ বছর আগ থেকে শুরু হওয়া এই মঙ্গল শোভাযাত্রা কীভাবে বাঙালির সার্বজনীন উৎসব ও সংস্কৃতি হতে পারে?'

তরুণ-তরুণীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, 'যৌবনকাল আল্লাহ তাআলার প্রদত্ত সবচেয়ে বড় নেয়ামত। এই সময়টাতে আল্লাহর ইবাদতে ও তার সন্তুষ্টিতে কাজ লাগাও।'

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, ধর্ষণ ও পাপাচার বাড়ার ঘটনায় আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনারও আহ্বান জানান হেফাজতের এই শীর্ষ মুরুব্বী।