advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 15 মিনিট আগে

দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ে বোন নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুশোকে কাতর ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রাফিকে শুক্রবার রাতে ফেনীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

rashedul hasan raihan

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রিয় বোনের অসহ্য মৃত্যুযন্ত্রণা আর দুই ভাই-বোনের অতীত স্মৃতি কোনো ভাবেই ভুলতে পারছেন না রায়হান। শুধু বুক থাবড়িয়ে থাবড়িয়ে কান্না করছেন। চোখের জল শুকিয়ে গেছে। খাওয়া-ধাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। রাফির জানাজার নামাজের পূর্ব থেকে বার বার জ্ঞান হারিয়েছেন। জ্ঞান ফিরলে রাফিকে খুঁজছেন।

বাবা কে এম মুসা বলেন, নুসরাতের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি শোকাহত ছোট ভাই রায়হান। রায়হান নুসরাত থেকে মাত্র দুই বছরের ছোট। দুই ভাই-বোন একসঙ্গে মাদ্রাসায় যাওয়া-আসা করত। সে ওই মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র। অনেকটা সমবয়সী বলে ভাইবোনের মধ্যে খুনসুঁটি লেগেই থাকত। নৃশংসতার শিকার হয়ে নুসরাতের অকালে চলে যাওয়ায় সেই স্মৃতিই হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছেন ছোট ভাই রায়হান।

উল্লেখ, বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অগ্নিদগ্ধ মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। এর আগে ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম (এইচএসসি) পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান ওই ছাত্রী। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। ওই সময় বোরকা পরিহিত ৪-৫ জন নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়।

মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। এই অভিযোগে নুসরাতের মা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা তুলে নিতে অস্বীকার করায় নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে তাকে হত্যা করা হয়। ইউএনবি।

sheikh mujib 2020